সায়ন্তী অধিকারী। ভারতীয় হ্যান্ডলুম শুধু একটি শিল্প নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অসংখ্য কারিগরের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। সেই ঐতিহ্যকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল ‘কাঁথা বাই ফারাহ খান’। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি প্রকাশ করেছে তসর সিল্কে তৈরি নতুন একটি বিশেষ সংগ্রহ, যেখানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁথা সূচিশিল্প, ব্লক প্রিন্ট এবং হাতে আঁকা নকশার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। ঐতিহ্যের শিকড়কে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক নারীর রুচি ও জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি এই সংগ্রহ ইতিমধ্যেই ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

নতুন হ্যান্ডলুম কালেকশন
গাঢ় রক্তিম রঙের সমৃদ্ধ সিল্কের উপর হাতে সূক্ষ্ম কাঁথা সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে নানা রঙের পদ্মফুল। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পদ্ম পবিত্রতা, নির্মলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক-কাদাজল থেকে জন্ম নিয়েও যে ফুল অমলিন থাকে। সেই চিরন্তন ভাবনাকেই ধারণ করে এই শাড়ি। শুভ, সৌভাগ্য ও নতুন সূচনার প্রতীক লাল রঙের সঙ্গে পদ্মের সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্যের প্রতীকী অর্থ এক অনন্য সুর সৃষ্টি করেছে, যা দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
গভীর বোতল-সবুজ সিল্কের জমিনে সরিষা, মরচে ও হাতির দাঁতের মতো কোমল রঙের সুতোয় হাতে কাঁথা সেলাইয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পদ্মের নকশা। আঁচলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই মোটিফ আধ্যাত্মিক জাগরণ, অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মবিকাশের প্রতীক। জ্যামিতিক নকশার পাড়ে ঘেরা সবুজ জমিন প্রকৃতির নবজাগরণ ও বিকাশের ইঙ্গিত বহন করে, যেমন প্রতিকূলতার মাঝেও পদ্ম তার নিজস্ব সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়।

পদ্ম সংগ্রহ
এই দুই শাড়িই ভারতীয় ঐতিহ্যের অন্যতম পবিত্র প্রতীক পদ্মকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। মন্দিরের ভাস্কর্য, দেবদেবীর অলংকরণ এবং শতাব্দীপ্রাচীন বস্ত্রশিল্পে পদ্মের যে ঐতিহ্য, তা এখানে বাংলার কাঁথা সূচিশিল্পের নিপুণ হাতে নতুন রূপ পেয়েছে। প্রতিটি হাতে সেলাই করা পদ্ম কেবল একটি অলংকার নয়, বরং পবিত্রতা, সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে এক গভীর সংযোগের বহিঃপ্রকাশ।
বিবাহ শাড়ি – ১
উজ্জ্বল গাঁদা-কমলা রঙের সিল্কের এই শাড়িটি বিয়ে ও উৎসবের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত। ঝলমলে একরঙা জমিনজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে সূক্ষ্ম হাতির দাঁতের রঙের ফুলের বুটি। আঁচল ও পাড়ে লাল, রয়্যাল নীল, বেগুনি ও সোনালি রঙের সমৃদ্ধ বুননে ফুটে উঠেছে জ্যামিতিক ও ফুলেল নকশা। ভারতের সমৃদ্ধ হ্যান্ডলুম ঐতিহ্যকে আধুনিক কনের রুচির সঙ্গে মিলিয়ে এক অনন্য শৈল্পিক প্রকাশ এই শাড়ি।
কালো ফুলের শাড়ি
গভীর কালো সিল্কের জমিনে হাতে কাঁথা সূচিকর্মে ফুটে উঠেছে প্রবাল, মরচে ও সরিষা রঙের ফুল। ঐতিহ্যবাহী কাঁথার রানিং স্টিচে আঁকা সূক্ষ্ম লতাপাতা শাড়ির গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। আঁচল ও পাড়ে আরও ঘন ফুলেল নকশা, যার চারপাশে সাদা রানিং স্টিচের সূক্ষ্ম রেখা নকশাগুলোকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। গাঢ় কালো পটভূমির ওপর উজ্জ্বল ফুলের এই বৈপরীত্য বাংলার কাঁথা সূচিশিল্পের ধৈর্য, দক্ষতা ও অনন্য কারুকার্যের এক অপূর্ব নিদর্শন।
বিবাহ শাড়ি – ২
উষ্ণ কমলা থেকে গাঢ় লালে রূপান্তরিত ওমব্রে সিল্কের এই শাড়ির পাড় ও আঁচল জুড়ে রয়েছে হাতে করা সূক্ষ্ম কাঁথা সূচিশিল্প। হীরকাকৃতি, ত্রিভুজ ও জালিকাবদ্ধ জ্যামিতিক নকশাগুলো নানা রঙের সুতোয় ঐতিহ্যবাহী কাঁথার রানিং স্টিচে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গাঢ় টিল রঙের পাড়ে সমাপ্ত এই শাড়ি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও আধুনিক নান্দনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।





