গান্ধীর ডাক, হুসাইনের তুলিতে ‘ভারত ছাড়ো’

৩৬৫ দিন। আজ ৮ অগস্ট। ১৯৪২-এর এই দিনেই মুম্বইয়ের অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ শাসনের অবসানের দাবিতে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক। পরদিন থেকেই গ্রেফতার শুরু হয় জাতীয় নেতাদের। কিন্তু নেতৃত্বকে বন্দি করেও থামানো যায়নি গণআন্দোলনের ঢেউ। সেই ইতিহাস আজও ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম তীব্র অধ্যায়।
এই ইতিহাসই অন্য এক সময়ে নিজের তুলিতে নতুন ভাষা দিয়েছিলেন মকবুল ফিদা হুসেন। তাঁর ‘ভারত ছাড়ো’ চিত্রকর্মটি ১৯৮৫ সালের। ছবির একেবারে উপরে বড় করে লেখা ১৯৪২। তার নীচে খণ্ডিত, মুখহীন ঔপনিবেশিক অবয়ব—হাঁটছে, এগিয়ে আসছে, যেন দখলদার শাসনের নিষ্ঠুর যন্ত্র। আর ছবির নীচের অংশে সাদা পোশাকে উপবিষ্ট এক সন্ন্যাসীসদৃশ চরিত্র হাত তুলে প্রতিবাদের সংকেত দিচ্ছেন। সেই অবয়বেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে গান্ধীর উপস্থিতি।
হুসাইনের ছবির শক্তি বাস্তবানুগ প্রতিকৃতিতে নয়, প্রতীকে। মুখহীন শাসকের বিপরীতে গান্ধীর শান্ত, স্থির শরীর যেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক। একদিকে রাষ্ট্রের দমন, অন্যদিকে নিরস্ত্র মানুষের অটল প্রতিরোধ। ছবির সীমিত রং, মোটা কালো রেখা এবং ভাঙাচোরা মানবদেহ ইতিহাসকে যেন স্মৃতিচিত্র নয়, এক চলমান সংঘর্ষে পরিণত করেছে।হুসাইন গান্ধীকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি; তাঁর শিল্পে গান্ধী হয়ে উঠেছেন ভারতীয় বিবেকের প্রতীক। ‘ভারত ছাড়ো’ চিত্রে তাই ১৯৪২ একটি তারিখের বেশি কিছু—এটি স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং অহিংস সংগ্রামের দৃশ্যমান স্মারক।
মজার তাৎপর্য, স্বাধীনতার বহু দশক পরে আঁকা এই ছবি যেন অতীতকে বর্তমানের সামনে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করে—স্বাধীনতা কি শুধু ইতিহাসের অর্জন, নাকি প্রতিদিন রক্ষা করারও দায়?

Scroll to Top