৩৬৫ দিন। তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কান্ডারি তাঁরাই। আর তাঁদেরকেই দেশের প্রয়োজন। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্রদের বিক্ষোভের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের প্রচেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এ বার প্রকাশ্য জনসভায় তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিতে দেখা গেল তাঁকে। কয়েকদিন আগেই আরএসএস সুপ্রিমো মোহন ভাগবত জেন জি, জেন আলফাদের সঙ্গে বৈঠক করে যুব প্রজন্মের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন। এবার সেই একই সুরে
তরুণরাই দেশের ভবিষ্যত, ওরাই পথ দেখাবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন , ‘‘ জীবনে অনেক সমস্যা আসবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাম্পাসের জীবন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের জীবনে ফারাক রয়েছে। আইআইটি পরীক্ষার সিলেবাস আছে। কিন্তু জীবনের পরীক্ষার সব কিছু সিলেবাসের বাইরে। ক্যাম্পাস-জীবনে সব কিছু পরিষ্কার থাকত আপনাদের কাছে। কোনটা পড়তে হবে, কী পরীক্ষা দিতে হবে। সব আগে থেকে জানতেন। কিন্তু জীবনের কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না।’’ প্রতি পদক্ষেপে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখার সত্তাকে জাগিয়ে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম যাতে কোনও কিছুই না বুঝে মেনে না-নেন। প্রশ্ন তুলতে হবে। তার উত্তর খুঁজে নিতে হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি জানান, প্রত্যেক প্রজন্মের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের উন্নয়নের স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আপনারা প্রত্যেকেই জানেন, প্রতি প্রজন্মের সামনে সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ আসে। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজেদের বদলাতে হবে। আগামী দিনে আপনারা যা করবেন, সেটাই বিকশিত ভারতের রাস্তা দেখাবে। তাই আপনারা এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, যা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজে লাগে।’’
অর্থনীতি, প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য কাজ করছে দেশ। আর এটাই বিকশিত ভারতের লক্ষ্য বলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বিকশিত ভারতের এই সফরে আপনাদের ভূমিকা অনেক বড়। দেশের তরুণ প্রজন্ম যত শক্তিশালী হবে, দেশও তত শক্তিশালী হবে।’’
উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং তার জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি এবং পড়ুয়াদের আন্দোলনে উত্তাল ছিল গোটা দেশ। কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। কিন্তু তার পরেও আন্দোলন চলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে। সেই আন্দোলন ছিল মূলত তরুণ প্রজন্মের। সরকারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয়, সরকারের প্রতি তাঁদের যাতে আস্থা থাকে, তার জন্য যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পরই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কাছে টানার চেষ্টা করেন তিনি। রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানিয়ে পর পর তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। এ বার প্রকাশ্য জনসভা থেকে ফের দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের চেষ্টা করলেন মোদী।





