তিন সপ্তাহের মধ্যে বারুইপুর এনকাউন্টার কান্ডে তদন্ত শেষ করতে হবে সিআইডি-কে, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ

৩৬৫ দিন। তিন সপ্তাহের মধ্যে বারুইপুর ধর্ষণ খুনে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের ইনকাউন্টার মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে সিআইডি-কে। নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। মঙ্গলবার হাইকোর্টে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার মধ্যে সিআইডি-কে তদন্ত শেষ করছে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে মঙ্গলবার আদালতে জানানো‌ হয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করা আছে। তদন্ত চলছে। গত জুলাই মাসে বারুইপুরের সূর্য পুরে রেল লাইনের ধারের একটি জলা থেকে এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে ধর্ষণ করে তাকে খুন করা হয়েছে। এই নিয়ে গোটা বারুইপুর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে মারা হয়। একাধিকবার রারুইপুর যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।
তাঁর কড়া নির্দেশের পর এই ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। প্রথমে প্রভাসকে গ্রেফতার করা হয়। প্রভাসই দেখিয়ে দেন, নাবালিকার দেহ কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। ৭ জুলাই রাতে প্রভাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশ দাবি করে প্রভাস পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের রিভালবার ছিনিয়ে নিয়ে সে গুলি চালায় নিজেকে এবং সহকর্মীদের বাঁচাতে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই মৃত্যু হয় প্রভাসের। যদিও এই এনকাউন্টার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। কেন প্রায় মধ্য রাতে দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে ঘন অন্ধকারের মধ্যে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গেল? নিয়ম মত পুনর্নির্মাণের আগে কেন এলাকা কর্ডন করা হল না? হ্যান্ড ক্যাপ থাকা সত্ত্বেও কি ভাবে পালালো প্রভাস? গুলি কেন পায়ে চালানো হল না? ইত্যাদি। এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিল তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা করা যাবে না। তাই তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট।

Scroll to Top