সুপ্রিম কোর্টে শোভনদেবের মামলা দায়েরের ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৃণমূল বি শিবিরের ১০ বিধায়ককে নোটিশ বিধানসভা অধ্যক্ষের

৩৬৫ দিন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর অনুগামী ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মামলা দায়ের করার 24 ঘন্টার মধ্যেই বিধানসভার অধ্যক্ষের তরফে নোটিশ পেলেন তৃণমূল বি শিবিরের ১০ বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিধায়ক পদ অবিলম্বে কেন খারিজ করা হবে না এই মর্মে জবাবদিহি তলব করে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাবদিহি করতে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে মান্যতা দিয়ে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন এই দশ জন। কিন্তু নির্বাচনের পরেই সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে দলের যাবতীয় নির্দেশিকা অমান্য করে দলে বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। তার প্রেক্ষিতেই এবারে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে কেন তাদের বিধায়ক পথ খারিজ করা হবে না এমন প্রশ্ন তুলে বিধানসভার অধ্যক্ষ নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
।প্রসঙ্গত গতকাল সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন ফাইল করেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সেই মামলা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রত, ফিরহাদ, অরূপ রায় সহ দশজন বিধায়কের পদ খারিজের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি দায়ের করেছে মমতাপন্থী তৃণমূল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটের বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করে পৃথক ব্লক গঠন করেছেন যে সমস্ত বিধায়করা, তাঁদের মধ্যে যে দশজনের বিরুদ্ধে স্বপন দেব চট্টোপাধ্যায় মামলা দায়ের করেছেন তারা হলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান ও রথীন ঘোষ। তবে আরো অনেকেই ঋত ব্লকে যোগ দিলেও নির্দিষ্টভাবে এই দশজনের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণ ব্যাখ্যা করে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে ১০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। বাকিদের একটু অক্সিজেন দিচ্ছি। ফিরতে চাইলে ফিরে আসুন। না ফিরলে পুরো রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋত-শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কালীঘাটে ফেরার রাস্তা খোলা রাখা হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে।

Scroll to Top