খুনের অপরাধীকে সেই সম্পর্কে যখন আপনারা জেনেই গিয়েছেন, তখন তাকে গ্রেফতার করছেন না কেন? : কুণাল ঘোষ

৩৬৫ দিন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আত্ম সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রার্থী করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করেছে “ভাইপো গ্যাং”। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এই কাজের জন্য তৃণমূল দুষ্কৃতিদের ২ কোটি টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন কুণাল বলেন, “নন্দীগ্রামে যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।
কিন্তু এত কথা বলা হচ্ছে, আমাদের শুধু বক্তব্য, যাকে হত্যা করা হল, তার বিচার কোথায়? এই খুনের অপরাধী কে সেই সম্পর্কে যখন আপনারা জেনেই গিয়েছেন তাহলে তাকে গ্রেফতার করছেন না কেন? আমরা তো চাই, খুনি গ্রেপ্তার হোক। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তদন্ত চলাকালীন কি করে বলে দিচ্ছেন, যে তৃণমূলের লোকেরা তাকে খুন করেছে? তৃণমূল এই ঘটনার ত্রিসীমানার মধ্যে নেই। পুলিশ মন্ত্রী তো মুখ্যমন্ত্রী, তাহলে এতদিন পর এই ঘটনার কোনো বিচার হল না কেন? এখন সে দিক থেকে মুখ ঘোরাতে তার মাকে প্রার্থী করা হচ্ছে। এর আগে আমরা অভয়ার ক্ষেত্রে দেখেছি। শুধু রাজনীতি করার জন্য, তাঁর মাকে প্রার্থী করা হয়। ভোটের আগে মৃতের মাকে পাশে দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এই কাজ তৃণমূল করেছে। আপনার কাছে কোন তথ্য প্রমাণ আছে? থাকলে পেশ করুন। শুধু মিথ্যে ন্যারেটিভ প্রচার করা হচ্ছে। সরকার কাদের? পুলিশ কাদের? সিআইডি কাদের? কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি কাদের?” একই সঙ্গে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “রহস্য জনক ভাবে মৃত এক ব্যক্তির মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আপনারা এই আবেগকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে এনেছেন। এই খুনের বিচার এখনো পর্যন্ত করতে পারলেন না আপনারা, তার আগে নিহতের মাকে প্রার্থী করে এই আবেগকেই ব্যবহার করতে চেয়েছেন আপনারা।” উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছিল গত ৪ মে। তার ঠিক দু’দিনের মাথায় ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের রাস্তায় গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছিল শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। চালকও জখম হন গুলিতে। বাইকে করে এসে গুলি করে পালায় আততায়ীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্যের পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দলও (সিট) গঠন করা হয়েছিল। পরে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার যায় সিবিআই-এর হাতে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই হত্যার কোন কুলকিনারা করতে পারেনি রাজ্য পুলিশ বা সিবিআই। তার আগেই রাজ্যে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করে তাঁকে পাশে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরই সমালোচনা করেছে রাজনৈতিক মহল।

Scroll to Top