৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। কুয়েতের দল আল আরবির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয়। ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র দলটা শেষ একটা মাসে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। যার সিংহভাগ কৃতিত্ব অবশ্যই ম্যানেজার লোপেজ হাবাস দাবি করতেই পারেন। কিন্তু এই মানুষটা কখনও নিজের কৃতিত্ব দেখাতে চান না। পুরো কৃতিত্ব দলের ফুটবলারদের এবং সাপোর্ট স্টাফদের দিতে ভালোবাসেন। এইজন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। হাবাস বিশ্বাস করেন ড্রেসিংরুম ঠিক থাকলে এবং ফুটবলারদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক থাকলে বাকি ফিটনেস এবং বোঝাপড়া তৈরি করে নিতে সুবিধা হয়। এই মন্ত্রই তিনি তৈরি করছেন তার ইস্টবেঙ্গলকে। বুধবার সন্ধ্যায় এসিএল ২-তে অভিযান শুরু করছে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে বিদেশের মাটিতে নামছে লাল-হলুদ। প্রতিপক্ষ জর্ডনের দল আল হুসেইন। কিছুদিন আগেই ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবে চোট-আঘাত ও ভিসার জটিলতায় কিছুটা চাপ রয়েছে। লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস অবশ্য সেসব পাত্তাই দিচ্ছে না। দল ছন্দে আছে। ট্রফি জিতেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই লক্ষ্য স্প্যানিশ কোচের।মরশুমের শুরুটা এমনিতে খারাপ হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। সদ্যই ডুরান্ড কাপ জিতেছে দল, তাও আবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দী মোহনবাগানকে হারিয়ে। তবে এশীয় মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের আগে কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় ইস্টবেঙ্গল।
ক্রিস ইকনোমিডিস, লালচুংনুঙ্গা, শৌভিক চক্রবর্তী, বরিস সিংরা জর্ডন যেতেই পারেননি। সামান্য চোট সমস্যা রয়েছে মহম্মদ রশিদের। তাতে কী? হাবাস তো আছেন। এশিয়ার মঞ্চেও বাজিমাতের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী তিনি।ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ বললেন, “এসিএল টু-তে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ এসেছে আমাদের কাছে। আমার খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে চাই। গত দুই মাসে আমরা যে জয়ের ধারা তৈরি করেছি, সেটাকেই বজায় রাখতে চাই। আগামিকাল আল হুসেনের বিরুদ্ধে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাই।”এই ম্যাচে অভিষেক হতে চলেছে লাল-হলুদের ক্রোট ডিফেন্ডার দিয়েগো জিভুলিচের। তবে প্রতিপক্ষ আল হুসেইনও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেছেন তাদের কোচ আহমাদ হায়েল। জর্ডনের ক্লাবটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অত্যন্ত খারাপ। মরশুমের শুরুতেই হায়েলের ছাত্ররা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। জর্ডনের প্রো লিগে আপাতত পাঁচটা ম্যাচ খেলেছে আল হুসেন। কিন্তু মাত্র একটা ম্যাচে জয় এসেছে। পয়েন্ট টেবিলে সকলের তলায় পড়ে রয়েছে তারা। ইস্টবেঙ্গলের প্লাস পয়েন্ট বিপিনের গতি, রশিদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং ডিফেন্সে আনোয়ারের ঠান্ডা মাথা। গোলরক্ষক গিল ছন্দে আছেন। সব মিলিয়ে দলটায় একটা ফিল গুড ফ্যাক্টর আছে। এখন দেখার আল- হোসেনের বিপক্ষে আমানের মাঠ থেকে তিনটি পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফিরতে পারে কিনা ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়নরা। তবে ইস্টবেঙ্গল যা খেলবে নিজেদের ডিফেন্স গুছিয়ে খেলবে। কাউন্টার আক্রমণ এবং সেট পিস ভরসা মশাল বাহিনীর। জর্ডানের ফুটবলারদের উচ্চতা বেশি। তাই নিজেদের বক্সের সামনে বিপক্ষ দল যাতে কম ফ্রিকিক এবং কর্নার পায় সেটাও অনুশীলনে দেখিয়ে দিলেন লাল হলুদ কোচ। সব মিলিয়ে এই ম্যাচটা লড়াই করে জিততে মরিয়া হাবাস অ্যান্ড কোম্পানি।
আল- হোসেন বনাম ইস্টবেঙ্গল
এসিএল ২ (রাত নটা, ফ্যান কোড অ্যাপ )
আজ জর্ডনের মাঠে ইস্টবেঙ্গলের অগ্নিপরীক্ষা
হাবাসের ব্লু প্রিন্ট রেডি


