৩৬৫ দিন। ঝাঁ চকচকে চেম্বার। একটি দুটি নয় আট আটটি। স্যুটেট বুটেড ডাক্তারবাবুকে দেখলেই যেন ভক্তি হয়। এমন আশ্বাস দেন মাথায় হাত বুলিয়ে যেন সাক্ষাৎ ধন্বন্তরি। তারপর ৮০০ টি টাকা গুনে নিয়ে বিদায় করতে রোগীদের। অবশ্য ইউপিআই -এর ব্যবস্থাও ছিল। সেই ডাক্তারবাবু যে এমন ভাবে ফাঁকি দিয়েছেন বলা ভালো এত বছর ধরে লোক ঠকানো কারবার খুলে প্রায় কোটি পতি হলেন তা ভাবতেই বিস্মিত হয়ে পড়ছেন সোনারপুরের খাসিয়াড়ার বাসিন্দারা।
তারা বলছেন, এত ভালো ব্যবহার, কত বড় বড় কথা বলতেন সে কি না এমন ঠগবাজ! যে ডাক্তারবাবুর কথা বলা হচ্ছে তার নাম বিশ্বরূপ আচার্য। বলাই বাহুল্য তিনি ভুয়ো ডাক্তার। বেশ কয়েক বছর লোক ঠকানো কারবারের পর সোমবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এখন তার স্থান হয়েছে শ্রীঘরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েক বছর আগে হঠাৎ-ই উদ্ভব হয় বিশ্বরূপের। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট পরিচয় দিয়ে সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় চেম্বার খুলেছিলেন বিশ্বরূপ।তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে এফআরসিএস-এর মতো ডিগ্রি দেখে রোগীদের ভিড় জমতে থাকে। অল্প দিনের মধ্যে পসার বাড়ে। একটি থেকে আটটি চেম্বার হাঁকিয়ে ফেলেন। রোগী পিছু ৮০০ টাকা করে ফি নিতেন। সম্প্রতি আরো একটি চেম্বার খোলার পরিকল্পনা করে সে একটি বাড়িও ভাড়া নেয়। আর এতেই জাগে সন্দেহ। বাড়ির যে মালিক তার বিশ্বরূপের কথাবার্তায়য্ সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তিই পুলিশে ফোন করে অভিযোগ জানান। তারপরেই পুলিশ রোগী সেজে ওই ডাক্তারের চেম্বারে হানা দেয়। দু একটি কথার পরেই তারা বুঝে যান ডাক্তার ভুয়ো। রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে বিশ্বরূপের কাছ থেকে একাধিক ডাক্তারি ডিগ্রি পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশের ডিগ্রি। সব কটিই জাল ডিগ্রি। ওই সব জাল ডিগ্রি কোথা থেকে তার কাছে এল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সম্পত্তির হিসেব-ও দেখা হচ্ছে।
আটটি চেম্বার বিদেশী ডিগ্রি কোটি টাকার মালিক, সোনারপুরে রোগী সেজে জাল ডক্তার ধরল পুলিশ


