৩৬৫ দিন। অস্থির বিশ্ব সুশাসনে ব্রিকস গোষ্ঠীকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার উপরে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আরো বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’-কে ‘নীতি নির্ধারক’ হয়ে উঠতে হবে এবং বিশ্ব পরিচালন ব্যবস্থায় চলতি ‘সুবিধাপ্রাপ্ত পিরামিড’ কাঠামোর পরিবর্তে ‘অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফম’ গড়ে তুলতে হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার বার্তাও দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, গত দু’দশকে বিশ্বে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে এই ব্রিকস। এই গোষ্ঠী কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়। এদিকে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বড়ো কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে স্থান পেল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গ। সেইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ, শুল্ক খাঁড়ার নিন্দা ও পরমাণু অস্ত্রের সুরক্ষার উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে উন্নয়নশীল দেশগুলির অধিকার এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বমঞ্চে গ্লোবাল সাউথকে কেবল নিয়ম মেনে চলা দেশ না হয়ে নীতি নির্ধারণকারী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার সহ ১০ দফা রূপরেখা পেশ করেছেন। শনিবার বিকেলে দিল্লি সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে ব্রিক্স।
সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ওই ঘোষণাপত্রে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপানোর নিন্দা জানানো হয়েছে। গত এক বছরে বিভিন্ন দেশের উপরে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপায় আমেরিকা (পরে তা ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করে আমেরিকারই সুপ্রিম কোর্ট)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই শুল্কনীতি বার বার সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ব্রিক্সের ঘোষণাপত্র একতরফা শুল্কের প্রসঙ্গে কোনও দেশের নামোল্লেখ না করলেও নিশানায় যে মার্কিন শুল্কনীতিই, তা স্পষ্ট।বিভিন্ন দেশের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও বিরোধিতা করেছে ব্রিক্স। এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন, খাদ্যসুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বস্তুত, সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকাই। পাশাপাশি, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই যে সংঘাতের সমাধান সম্ভব, তা-ও স্পষ্ট করেছে জোট। উঠে এসেছে গাজায় সংঘর্ষবিরতির কথাও। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবিকেও সমর্থন জানিয়েছে এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে বহু বছর ধরে কূটনৈতিক স্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। দাবি তুলেছে সংস্কারেরও। এ বার দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফের এক বার তা স্পষ্ট করে নরেন্দ্র মোদী। নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে সংস্কারের ডাক দিলেন তিনি। মোদীর কথায়, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা চলবে না।




