ইস্টবেঙ্গল নিয়ে অভিযোগের পরেই খুনের হুমকি পেলেন অস্কার
সাহায্য চাইলেন কলকাতা পুলিশের

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। খেলা জমে গেছে কলকাতা ময়দানে। একদিন আগেই ইস্টবেঙ্গলকে তাদের প্রাক্তন কোচ অস্কারের প্রবল সমালোচনা হজম করতে হয়েছে। তবে সমর্থকদের নয়, ইস্টবেঙ্গলের কিছু কর্তা এবং তাদের কুকীর্তির কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন প্রাক্তন লাল হলুদ কোচ। তবে তিনি শুধু অভিযোগ আনলেই হবে না, সেটা প্রমাণ করতে হবে। তবেই একটা কেস দাঁড়াবে। অস্কার বলছেন তার কাছে সব প্রমাণ আছে। অস্কার ব্রুজো ও তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি! বিস্ফোরক অভিযোগ ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল জেতানো কোচের।
এতদিন ‘মাস্টার’ বিতর্কের মধ্যে বিষয়টা সীমাবদ্ধ ছিল। এবার তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অস্কার। বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশ ও স্প্যানিশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিতর্ক থামার বদলে আরও ঘনীভূত হচ্ছে।সম্প্রতি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ‘মাস্টার’কে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন অস্কার। এরপর ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ‘অস্কার ব্রুজো জিন্দাবাদ’ বলে পালটা দেন। এরপর ‘নীতুদা’ অর্থাৎ দেবব্রতর নাম নিয়ে পোস্ট করেন স্প্যানিশ কোচ। এবার আর ক্লাব বা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পোস্ট নয়। তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর একাধিক প্রমাণ সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অস্কার।এক্স হ্যান্ডেলে কলকাতা পুলিশ ও ভারতের স্প্যানিশ এমব্যাসিকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘আমার দলের সদস্য, আমার পরিবার ও আমাকে খুনের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টা ফুটবল নিয়ে সমালোচনা বা মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা ভয় দেখানো।
ইস্টবেঙ্গলের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে এই হুমকি ও হেনস্তার পরিকল্পনা করছেন। আমি ইতোমধ্যেই এর নিন্দা জানিয়েছি। প্রমাণ ছাড়া আমি এই হুমকির সঙ্গে জড়িতদের নাম করব না। সবকিছুর প্রমাণ থাকছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সব জানানো হবে।কয়েকটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন। যেখানে তাঁকে অকথ্য গালাগালি-সহ খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেন তিনি আর কখনও ভারতে না আসেন। একইভাবে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন তাঁর সহকারী আদ্রিয়ানও। অস্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত দু’দিন ধরে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার প্রমাণ এমব্যাসিকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি আশা করেন, পুলিশ ও এমব্যাসি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে এই নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে মনে করছে ভবিষ্যতে মোহনবাগানে আসার পথ তৈরি করে রাখছেন অস্কার। কেউ মনে করছেন এর পেছনে পরোক্ষে মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টের হাত আছে। কেউ আবার বলছেন বিনা কারণে অস্কার হঠাৎ কেনই বা এমন কথা বলবেন? যাই হোক, আসল সত্যিটা খুব শীঘ্র সামনে আসবে এমনটাই আশা করা যায়। ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল দেওয়া কোচ কতটা সত্যি বলছেন সেটা তাকে প্রমাণ করতে হবে। ইস্টবেঙ্গল অবশ্যই এখনও পর্যন্ত অস্কারের নামে মামলা করেনি। এদিকে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলরক্ষক সন্দীপ নন্দী একদিন আগেই বলেছেন মানুষ হিসেবে অস্কার অত্যন্ত খারাপ ছিলেন। একবার বিমানবন্দরে তার সঙ্গে প্রবল ঝগড়া হয়। সন্দীপ দলের ভেতরের কথা কর্তাদের কানে তোলেন এমনটাই অভিযোগ ছিল প্রাক্তন কোচের। সন্দীপ বলছেন যে কোচ নিজের বর্তমান ক্লাব (ইন্দোনেশিয়ার ভয়ংকরা এফসি) নিয়ে বেশি না ভেবে প্রাক্তন ক্লাব ইস্টবেঙ্গল নিয়ে ভাবছেন তার কাজে মন থাকে না এতেই প্রমাণ। সময় বলবে কে ঠিক কে ভুল। তবে অস্কারের এমন অভিযোগ এবং তারপর আজ মৃত্যুর হুমকি ব্যাপারটা কিন্তু জমে গেছে রীতিমত।

Scroll to Top