কলকাতা লিগ ডার্বি জিততে মরিয়া বাগান, সাহাল
মনবীররা শুরু থেকেই খেলবেন

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। কয়েকদিন আগে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলর কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েছে মোহনবাগান। শুধু হারেনি, চারটি গোল হজম করেছে তারা। ১-৪ ব্যবধানে শেষ কবে লাল হলুদের কাছে হেরেছে বাগান সেটা ভেবে দেখার বিষয়। যে কলকাতা ডার্বি শেষ পাঁচ, ছয় বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে মোহনবাগান সেখানে এই স্কোরলাইন তাদের কাছে মেনে নেওয়া যেমন অসম্ভব তেমন লজ্জারও বটে। তাহলে উপায় কি? এক সময় যে কলকাতা লিগকে গুরুত্বহীন বলে দাবি করত সবুজ মেরুন ম্যানেজমেন্ট, সম্মান বাঁচাতে এখন সেই কলকাতা লিগের ডার্বিকেই পাখির চোখ করতে হচ্ছে তাদের। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ টু প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গলর গুরুত্বপূর্ণ খেলা রয়েছে আল হোসেনের বিরুদ্ধে। তাই সিনিয়র দলের ফুটবলার হাবাস ছাড়বেন না মোটামুটি সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। কারণ ৭ তারিখে কলকাতা ডার্বিতে যদি কেউ চোট পেয়ে যান তার দায়িত্ব কে নেবে?
ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ডার্বির থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু এবং তারপর আইএসএল। তবে কর্মকর্তারা জানেন হাজার হলেও কলকাতা ডার্বি। তা সেটা লিগের লড়াই হোক বা যেখানেই হোক। নিঃসন্দেহে ইস্টবেঙ্গলর রিজার্ভ দলটা দারুন খেলছে এখন পর্যন্ত। আকাশ, অংকন, বিজয়, মনোতোষদের মতো ছেলেরা নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন – কিন্তু মোহনবাগানের মনবীর, সামাদ, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে। এর সঙ্গে নাসিরি, সন্দীপ মালিক, সায়ন, তন্ময়দের মতো ঘরের ছেলেরাও ডুরান্ডের বদলা নিতে মরিয়া থাকবে। মোহনবাগান অলআউট খেলবে এবং একটা ভালো মার্জিনে জেতার চেষ্টা করবে। যদিও এটা কলকাতা লিগের ম্যাচ, তবুও দিনের শেষে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই তো। লাল হলুদ কর্মকর্তারা জানেন এই ম্যাচটার গুরুত্ব। তাই শেষ মুহূর্তে কোচকে অনুরোধ করে যদি ২-৩ জন সিনিয়র খেলানো যায় একবার শেষ চেষ্টা করা হবে। তবে সম্ভাবনা কম। কারণ হাবাস একবার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন সেটা তিনি বদল করেন না। এক্ষেত্রও করবেন মনে হয় না। তবু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা নিশ্চিত আগামী সোমবার বারাসাতের মাঠে মোহনবাগান যতই সিনিয়র ছেলেদের নামাক তাদের রিজার্ভ ছেলেরা জান-প্রাণ লড়িয়ে দেবে। তাছাড়া ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যেকটা তরুণ ছেলে ফিট এবং বোঝাপড়া দুর্দান্ত। তাই মোহনবাগান সিনিয়র খেলালেই যে বড় মার্জিনে জিতবে এমন কথা নেই।
অন্যদিকে মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টর পক্ষ থেকে কোচ বাস্তব রায়কে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে ডুরান্ড হারের বদলা হিসেবে দেখতে হবে এই ম্যাচটাকে। প্রথম টার্গেট জয়, দ্বিতীয় টার্গেট যত বেশি সম্ভব গোল করা। তবেই চার গোল খাওয়ার যন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। সায়ন গোড়ালিতে একটা চোট পেয়েছিলেন। কিছুটা ব্যথা রয়েছে এখনও। তবে তিনি খেলবেন। অন্যদিকে বাঙালি তন্ময় ঘোষ যিনি বাগান মাঝমাঠের অনেকটা জায়গা নিয়ে খেলেন তার কাছেও এই ম্যাচটা বড় সুযোগ। আর সবচেয়ে বড় ভরসা বাগানের সামাদ এবং মণবীর জুটি। এই দুটো ফুটবলার গোলের মধ্যে ছিলেন এবং ছন্দে আছেন। ডুরান্ড ফাইনালে বাগানের একমাত্র গোলদাতা ছিলেন মণবীর। দীর্ঘদিন মোহনবাগানে খেলার কারণে এই ম্যাচটার গুরুত্ব তাকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না। সামাদ যদি স্বাভাবিক ছন্দ দেখাতে পারেন গোল পেতে সমস্যা হবে না বাগানের। ডিফেন্সে রাহুল এবং শুভাশিসের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে।

Scroll to Top