উড়ানোর আগের দিনগুলিতে বহু বাঙালি ও মোঘলাই রাজকীয় খাবার খেতে পারবেন না বিমান চালকরা!

৩৬৫  দিন। আকাশ পথে উড়ানের আগের দিনগুলি থেকেই রসনা তৃপ্তিতে রাশ টানতে হবে।এবার বহু জিভে জল আনা বহু বাঙালি ও মোঘলাই রাজকীয় পদ চেখে দেখতে পারবেন না বিমান চালকরা। যেসব খাবারে পোস্ত দানা থাকে সেইসব জিভে জল আনা পদ এড়িয়ে চলার নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন।এই নির্দেশিকা ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কেন বিমান চালকদের জন্য এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ?
পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ কর্তাদের একাংশের মতে, আসলে পোস্ত দানা যুক্ত খাবার খেলে তন্দ্রা বা ঘুম ঘুম ভাব আসবে এমন কথা নেই। বাঙালি বাড়িতে আলু পোস্ত বা পোস্তর বড়া প্রায়শই খাওয়া হয়। শুধু ঘরোয়া হেঁশেলে এর যে কদর আছে তা নয়,বড় রেস্তোরাঁয় যেসব জিভে জল আনা পদ পাওয়া যায় তাতেও পোস্তের স্বাদ বিলাসের উপকরণ রয়েছে।যেমন, কোরমা -রেজালার মতো পদে টেস্টি পোস্তদানা দেওয়া হয়। যার জন্য রসিকজনেরা এইসব খাবার কব্জি ডুবিয়ে খান। পাইলটরাও আকাশ পথে যাতায়াতের অবসর সময়ে এই পোস্তদানা যুক্ত খাবার খেতে ভালোবাসেন। রকমারি সেইসব রসনা তৃপ্তির খাবার এবার থেকে বিমান চালকদের এড়িয়ে চলতে হবে। একথা ভেবে অনেকেই মন খারাপ করছেন।এটি আসলে তাদের সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
বিমান চালকদের অনেকে বলছেন, অল্প পরিমাণ পোস্ত খেলে তা চেকিংয়ের সময় ধরা পড়বে না। তবে বেশি পরিমাণে পোস্তদানা যুক্ত খাবার খেলে  তা রক্তের  ডোপ টেস্টে ধরা পড়বে।
নতুন নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে বিমান চালকদের?
ফ্লাইট ডিউটির আগের দিন গুলোতে অতি অবশ্যই উচ্চ মাত্রার পোস্তদানা রয়েছে এমন খাদ্য খাবেন না। বাঙালি ও মোঘলাই রকমারি পদে যেহেতু পোস্ত বেশি করে দেওয়া থাকে তাই সেইসব খাবার বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ফলে ডিউটির আগের কয়েক দিন বিরিয়ানি ও রসালো কারির স্বাদ থেকে বিমান চালকরা বঞ্চিত থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও উড়ানের আগে নিজের চিকিৎসা নিজে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এএলপিএ ইন্ডিয়ার তরফ  থেকে। মনস্তাত্ত্বিক দিকের কথা মাথায় রেখে এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ভুল কিছু হলে তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব যে আগামীতে পড়বে তা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এই নয়া নির্দেশিকায়।

Scroll to Top