৮ বছরের পুরনো মামলায় ধ্রুবের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

৩৬৫ দিন। ২০১৮ সালের একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে শনিবার নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করল দিল্লির সাকেত আদালত। প্রশাসনিক বিভ্রাটের জেরে আগের পরোয়ানাটি অস্ট্রিয়ার ঠিকানায় চলে যাওয়ায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতকে জানানো হয়। পাশাপাশি, ধ্রুব ইতিমধ্যেই ভারত ছেড়ে বিদেশে ফিরে গিয়েছেন বলেও এ দিন আদালতে জানানো হয়েছে। এর পরেই সাকেত আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন নতুন করে এই পরোয়ানা জারি করেন। যদিও আদালতের বিস্তারিত নির্দেশনামা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।২০১৮ সালের মে মাসে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র
মোদী’ নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া পেজের প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। ধ্রুবের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড হওয়া ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শীর্ষক একটি ভিডিয়ো ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
অভিযোগ, ওই ভিডিয়োয় ধ্রুব দাবি করেছিলেন যে, বিকাশ বিজেপির আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি এবং ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তিনি মহাবীর প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিকাশের দাবি, এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর ফলে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে।এই মামলায় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ধ্রুবকে প্রথম বার সমন পাঠিয়েছিল আদালত। কিন্তু তিনি অস্ট্রিয়ায় বসবাস করায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটে। চলতি মাসের শুরুতে অভিযোগকারীর আইনজীবী সমক্ষ শর্মা আদালতে একটি জরুরি আবেদন দাখিল করে জানান যে, ধ্রুব সম্প্রতি ভারতে এসেছেন। এর পরেই মামলাটি নতুন করে গতি পায়। গত ১২ অক্টোবর আদালত বিশেষ ‘দস্তি’ সমনের অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে আদালতের নথি বহনকারী (প্রসেস সার্ভার) সশরীরে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-র নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে নতুন সমন পৌঁছে দিতে পারেন। কিন্তু গত ১৭ অক্টোবর তিনি আদালতে রিপোর্ট দেন যে, গুরুগ্রামের ওই বাড়িটি তালাবন্ধ ছিল। এর পরেই ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন প্রথম দফায় জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিলেন। সেই পরোয়ানাটি ভুলবশত বিদেশের ঠিকানায় চলে যাওয়ায়, শনিবার সরাসরি গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করল আদালত। আগামী ২৩ নভেম্বর পরোয়ানা কার্যকরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে সাকেত আদালত। সম্প্রতি ভারতে এসেছিলেন ধ্রুব। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-সহ একাধিক স্বাধীন সংগঠন। আইনজীবী সমক্ষ শর্মা আদালতে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে সিজেপির সেই বিক্ষোভে যোগ দিতেই অস্ট্রিয়া থেকে ভারতে এসেছিলেন ধ্রুব। গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরের উদ্দেশে একটি প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ তাঁকে প্রায় ২০ ঘণ্টা আটক করে
রাখে। মুক্তি পাওয়ার পর ভারত ছেড়ে বিদেশে চলে যান ধ্রুব। লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়্যারে মহাত্মা গাঁধীর মূর্তির সামনে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ভোটার তালিকায় গরমিলের প্রতিবাদে রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস, ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং সিজেপি যৌথ ভাবে ‘চলো দিল্লি’ নামে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তার ঠিক আগের দিনই আদালতের এই নির্দেশ সামনে এল। ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় রবিবারের সমাবেশে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না ধ্রুব।

Scroll to Top