১৫ হাজার শিল্প, ৫০০ থ্রিডি মডেল নিয়ে ডিজাইন প্রদর্শনী

৩৬৫ দিন। রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের সর্ববৃহৎ ডিজাইন প্রদর্শনী ও সেমিনার, যার নেপথ্যে রয়েছে প্রখ্যাত ‘ভানওয়ার রাঠোর ডিজাইন স্টুডিও’ (বি আর ডি এস)। এই জমকালো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ডিজাইনকে একটি উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে পরিচিত করে তোলা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। ভানওয়ার রাঠোর ডিজাইন স্টুডিওর সভাপতি ড. ভানওয়ার রাঠোর জানিয়েছেন যে, বিগত ১১ বছর ধরে সারা দেশের প্রায় ১৫টি রাজ্যে এই সুবৃহৎ কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে। এই প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সমস্ত স্থানীয় ডিজাইন কলেজগুলোকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা, যাতে পড়ুয়ারা সঠিক তথ্য ও দিশা পেতে পারে। একই সঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, আর্কিটেকচার এবং ফাইন আর্টসের মতো ক্ষেত্রে কলকাতার কৃতি শিক্ষার্থীদের কাজের স্বীকৃতি ও সংবর্ধনা প্রদান করা, যা তাদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে আরও উৎসাহিত করবে। এবারের এই প্রদর্শনীতে প্রায় ১৫,০০০ এরও বেশি শিল্পকর্ম (আর্টওয়ার্ক) এবং ৫০০টি থ্রি-ডি মডেলের এক অপূর্ব সমাহার দেখা গেছে।
প্রদর্শনীতে কলকাতার পাশাপাশি ভুবনেশ্বর, গুয়াহাটি, শিলিগুড়িরাঁচি, জামশেদপুর ও ধানবাদ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। কলকাতার ছাত্রছাত্রীদের এই প্রদর্শনীতে অর্ধেকের বেশি অংশীদারিত্ব ছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতি ড. ভানওয়ার রাঠোর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কলকাতার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নাচ, গান এবং চিত্রকলার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ও জন্মগত সৃজনশীলতা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজাইন সেক্টর সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এখ নও রয়ে গেছে। যেখানে সাধারণ মানুষ এখনও সনাতন ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েন, সেখানে বর্তমান ভারতে ডিজাইনিং কোর্সের চাহিদা ও পরিসর বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনআইটি, আইআইটি এবং এনআইএফটি -এর মতো দেশের শীষর্ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখান থেকে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী সফলভাবে সুযোগ পাচ্ছে এবং পড়াশোনা শেষে সর্বোচ্চ ৭৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক প্যাকেজ লাভ করছে। গত ২১ বছর ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৯২টি কেন্দ্র রয়েছে এবং সর্বভারতীয় স্তরে এনআইটিএনআইএফটি ও আইআইটি-তে নির্বাচিত সফল প্রার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমেই উঠে আসে। সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অথচ মেধাবী ও ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ এবং সহজ ঋণ ব্যবস্থার সুযোগ। এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত এবং এটি তাদের জীবনের প্রথম বড় প্ল্যাটফর্ম, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ডিজাইন প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ড্রয়িং ও অঙ্কো বা ইংলিশের বিশেষ পাঠ্যক্রমের আওতায় এখানে ১ বছর, ৬ মাস কিংবা ১ মাসের কোর্স উপলব্ধ রয়েছে, যার ফি মাত্র ৬৫,০০০ টাকা।

Scroll to Top