৩৬৫ দিন। গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছি। আড়াই লক্ষ পিটিশনার আছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শুনানি শেষ করে সিএএ-এর মাধ্যমে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। কাউকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। এভাবেই আজ মতুয়া গড় বলে পরিচিত ঠাকুরনগরের আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি সম্পূর্ণ করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ আইনে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট হাতে পেলেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সবরকম প্রশাসনিক সাহায্য করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরনগরে এসে মাননীয় অমিত শাহ বলেছিলেন সিএএ আইন লাগু করা হবে। ৬ মার্চ, ২০২৪ সালে তা লাগু হয়েছে। ভারতবষের্ র সমস্ত রাজ্য সরকার সিএএ’র আওতায় যারা দেশভাগের বিভীষিকা নিয়ে এক দেশ ছেড়ে ভারতবষের্ আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী তার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন ক্যা ক্যা ছি ছি। অন্যায় করেছিলেন আপনাদের সঙ্গে। নাগরিকত্ব পেলেই তপশিলি জাতিভুক্ত সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে যারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা সিএএ সার্টিফিকেট ইতিমধ্যেই পেয়েছেন, ২৫ হাজার মতো। তাদের মধ্যে যাঁরা তফশিলি জাতিভুক্ত, বিশেষ করে নমঃশূদ্র, তাঁরা সিডিউল কাস্ট সার্টিফিকেট পাচ্ছিলেন না।
আমি এক মাস আগে মুখ্যসচিবকে দিয়ে অর্ডার করে দিয়েছে, যাঁদের সিএএ সার্টিফিকেট আছে, তাঁরা প্রত্যেককে সিডিউল কাস্ট সার্টিফিকেট পাবেন। পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক বিকাশের জন্য এ দিন একাধিক আর্থিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনাদের জন্যই এই সরকার তৈরি হয়েছে। এই কৃতিত্ব আপনাদের যদি না দি, তাহলে ভুল করব। যা বলবেন, সংবিধান মেনে তাই করবে আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া বোর্ড পুর্নগঠন করে এই অর্থবষের্ মতুয়া বোর্ডের মাধ্যমে বিশেষ উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। মতুয়া বোর্ড যদি মনে করে গোঁসাই সমাজের কল্যাণে যেকোনও ধরনে প্রকল্প নিতে পারবে, সেই অধিকার আমরা দেব। আগামী ৬ মাসের মধ্যে চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১০০ বেডের করব। মা বীণাপানির নামে উত্সর্গ করব।
আগামী বাজেটে ঠাকুরনগর পুরসভা হিসেবে ঘোষিত হবে। দিমাগী নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরে সুর মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে সতর্ক করে বলেনদেশ-রাজ্যকে যারা অস্থির করার চেষ্টা করছে। সেই দিমাগি নকশাল-মাওবাদী-আরশোলা-ছারপোকারা একসঙ্গে মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা সবাই উদ্বাস্তু হয়েছি একবার। আমার মা উদবাস্তু হয়েছে বরিশালে। শুধু হিন্দু বলে বাংলাদেশ থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের মতো যারা আমাদের দেশ-রাজ্যকে অস্থির করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকব। আমরা আর উদবাস্তু হব না। মোদিজিকে ছাড়ব না। ছেড়ে দিলে সোনার গৌর আর তো পাব না।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
- khabar365din
- November 1, 2026
- 7:49 pm
- No Comments





