মুক্ত ককরোচ নেতা আশুতোষ, সৌরভ

৩৬৫ দিন। সাত দিন তিহাড় জেলে কাটানোর পর বুধবার জামিনে ছাড়া পেয়েছেন দুই ককরোচ শীর্ষ নেতা সৌরভ ও আশুতোষ, তার ঠিক চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তাদের তলব করল দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা। সৌরভ ও আশুতোষের পাশাপাশি ডাকা হয়েছে আরেক সিজেপি নেতা আজিঙ্কে শিন্ডেকে। রাজৌরী গার্ডেনে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখার অফিসে তাদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কেন তলব তিন ককরোচ নেতাকে? দিল্লি পুলিশের সূত্র জানাচ্ছে, ১৩ অক্টোবর যন্তরমন্তরে গেট টপকে ঢুকে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন ককরোচ নেতারা। বিষয়টিকে ভালো ভাবে নিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ। তারা আদালতেও জানিয়েছে যন্তরমন্তরে যে কোনো আন্দোলন কর্মসূচীতে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তারপরেও সিজেপি নেতা ও কয়েকজন সমর্থক যে ভাবে গেট টপকে ভেতরে ঢোকে তা বেআইনি। এ ব্যাপারেই তিন জনকে জেরা করতে চায় দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। মূলত দুটি প্রশ্ন তারা করতে পারে বলে খবর – ১. কেন যন্তরমন্তর? নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কেন ককরোচরা ১৩ অক্টোবর সেখানে ঢুকলো? ২. আগেও রাঙ্কা, সৌরভরা মুচলেকা দিয়েছিলেন আর তারা অশান্তি হতে পারে এমন আন্দোলন করবেন না, তারপরেও কেন তারা অবৈধ পথে আন্দোলন করলেন? যদিও দিল্লি পুলিশের এই তলবকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসাবেই দেখছে ককরোচরা। তারা বলছে, যন্তরমন্তর হোক বা দেশের যে কোনো জায়গাতেই হোক জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ হল প্রত্যেক দেশপ্রেমী তাহলে দেশদ্রোহী। আসলে মোদি সরকার ভয় পেয়েছে তাই চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। বুধবার রাঙ্কাদের মুক্তির পরেও ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, দ্রুত ককরোচরা জ্ঞানেশ‌ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ফের পথে নামতে চলেছেন তার এই ঘোষণার পরেই তিন শীর্ষ ককরোচ নেতাকে দিল্লি পুলিশের তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

যন্তরমন্তরে আন্দোলন না করার শর্তে মুক্তি
১৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে ঢুকে পড়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন সৌরভ ও আশুতোষ। সেই থেকে তারা তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন। পাঁচদিন পর দিল্লির এক্সিকিউটিভ ম্যাজেস্ট্রেটের কোর্টে তাদের হাজির করানো হয় তবে জামিন মেলেনি।‌ দুদিন পর দিল্লি‌ হাইকোর্টে মামলা করে সিজেপি। জরুরি শুনানিও হয় তবে সেখানেও সুরাহা হয়নি। দিল্লি হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রশাসন যদি যন্তরমন্তরে আন্দোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে তবে সেই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, সমালোচনা করা যেতে পারে কিন্তু জোর করে সেখানে ঢুকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে তাকে বেআইনি বলা যায় না। দিল্লি হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে কেন যন্তরমন্তরে নিষেধাজ্ঞার পরেও ককরোচ জনতা পার্টি সেখানে কর্মসূচি করল? শেষ পর্যন্ত সিজেপি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে মামলা তুলে নেয়। এর একদিন পরে বুধবার দিল্লির আদালত রাঙ্কা, দাসদের জামিন মঞ্জুর করল। ৫০ হাজার টাকার বন্ডে দুজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে খবর।‌ একাধিক শর্ত মানতে হবে তাদের যার মধ্যে অন্যতম হল যন্তরমন্তরে কোনও কমসূচিতে তারা যোগ দিতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।
প্রতিবাদের অধিকার আছে, সিজেপি-কে সমর্থন করেও বিজেপির দুরভসন্ধি দেখছেন আন্নামালাই
ককরোচদের দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবার সরব হলেন সদ্য দলত্যাগী বিজেপি নেতা আন্নামালাই। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বেশ‌ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, সিজেপি যন্তরমন্তরে আন্দোলন প্রতিবাদ করার ঘোষণা করতেই কেন আন্দোলনস্থলের তালিকা থেকে যন্তরমন্তরকে বাদ দিতে হল? কেন সিজেপি-র আন্দোলনে পেলেট গান চললো? এছাড়া গ্রেফতার হওয়ার ককরোচ নেতাদের আদালতে পেশ থেকে তাদের জামিনদার বাতিল সহ একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, আন্নার মতে, ককরোচদের বাড়বাড়ন্ত বিজেপির কৌশল। তার দাবি, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ককরোচদের তোল্লাই দিচ্ছে যাতে বিরোধীদের জোটের পালে হাওয়া না থাকে।‌ সব প্রচার যাতে ককরোচরা পায়। কটাক্ষের সুরে আন্না লিখেছেন, বিজেপির চেয়ে এত ভালো পিআর টিম ককরোচরা টাকা খরচ করেও পেত না!

Scroll to Top