কংগ্রেসে যোগ দিন, আপনার নেতৃত্বে লড়ব: মমতাকে সরাসরি আহ্বান অধীরের

৩৬৫ দিন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে সকলকে দরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার পরামর্শ, আপনি সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। বাংলায় আমরা মমতা ব্যানার্জীর অধীনেই কংগ্রেস করব, তিনি তো নেত্রী ছিলেন কংগ্রেসের। এভাবেই আজ নজিরবিহীন ভাবে মমতাকে সরাসরি কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে লড়াই করার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবির পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেভাবে কংগ্রেস হাই কমান্ড বিশেষ করে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী প্রতি পদে মমতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলন করে চলেছেন এবং গতকাল ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতার সঙ্গে সোনিয়া গান্ধী দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক করেছেন, তার প্রেক্ষিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মমতার নেতৃত্বে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করার রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলার রাজনীতিতে বিগত প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতপার্থক্য সর্বজনবিদিত।
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি এবং রাহুল সোনিয়ার সঙ্গে মমতার বৈঠকের পর অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মমতা সম্পর্কে এই অবস্থান পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। কারণ এর আগেও বহুবার অধীর চৌধুরী মমতাকে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে লড়াইয়ের পরামর্শ দিলেও আজ তিনি কার্যত প্রস্তাব দেন মমতা যদি নিজের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসের যোগদান করেন তাহলে তাকে প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী হিসেবে মেনে নিতেও কোন আপত্তি নেই। অধীর বলেন, দরকার হলে কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্ব নিন এই বাংলায়। এই ঝঞ্ঝাট মিটিয়ে।‌বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে সকলকে দরকার। আমরা মমতা ব্যানার্জীর অধীনেই কংগ্রেস করব, তিনি তো নেত্রী ছিলেন কংগ্রেসের। আমি চাই আসন্ন উপনির্বাচন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাক। আমি মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন রাখবো তিনি যেমন নন্দীগ্রামে কংগ্রেস থেকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন তেমনি রেজিনগর কেন্দ্রে কংগ্রেস পার্টি আব্দুল্লাহিল কাফিকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে দিন।
তবে এর পাশাপাশি অধীর রঞ্জন চৌধুরী যুক্তি দিয়েছেন বাংলায় মমতার তৃণমূলের সঙ্গে বর্তমান কংগ্রেস কর্মীদের জোট বেঁধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে যদি তিনি কংগ্রেসে যোগ না দেন। অধীরের যুক্তি, এবারের নির্বাচনে যদি মমতা ব্যানার্জী জিতে যেতেন তাহলে তিনি তখনও মনে করতেন তিনি বিজেপিকে আটকাবার জন্য একাই একশো। কিন্তু হেরে যাওয়ার পর বুঝেছেন, সব বিরোধী বিরোধীরা একত্রিত না হলে বিজেপিকে রুখতে পারবেন না। ভারতবর্ষে রাহুল গান্ধীর সমর্থন ছাড়া তাঁর একার পক্ষে কখনও বিজেপিকে রোখা সম্ভব নয়। তাই আবার তিনি ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করা হয়, মমতাকে সমর্থন করা হয়, তাহলে এখানকার কংগ্রেস কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বেন। কারণ দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা আক্রান্ত এবং অত্যাচারিত হয়েছেন।

Scroll to Top