৩৬৫ দিন। ঘরে ঝুলছে প্রাক্তন তৃণমূল নেতার দেহ, ব্যালকনিতে পড়ে বাবার দেহ! সাত সকালে জোড়া রহস্যমৃত্যু উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে। মৃত তৃণমূল নেতার নাম সঞ্জয় রাউত। তাঁর বাবার নাম কমল রাউত। তারা অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে বাড়ির বারান্দা থেকে ঘরের ভিতর সঞ্জয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যেরা। বাড়ির ওই ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর বাবা কমল রাউতকে। দ্রুত তাঁকে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। কমল ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি দেহ-ই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দুটি মৃত্যুই আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। খুব সম্ভবত শনিবার ভোরে ছেলে সঞ্জয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তার বাবা।তারপর তিনিও বিষ বা ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খেয়ে আত্মঘাতী হন। তবে কী কারণে তারা আত্মহত্যা করতে গেলেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এক সময় অশোকনগর এলাকায় যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন সঞ্জয়। পরে অবশ্য পদ হারান। সম্প্রতি তার ব্যবসায় মন্দা চলছিল। বাজারে প্রচুর ধার দেনাও হয়ে গিয়েছিল। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এর জেরেই আত্মহত্যা হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত এই জোড়া রহস্যমৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক কোনো মোটিভ নেই বলছেন তারা। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে আপাতত দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সঞ্জয় অবিবাহিত ছিলেন। বাবা তাঁর সঙ্গেই থাকতেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, সঞ্জয় তাঁর বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বাবা-ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখছে অশোকনগর থানার পুলিশ।





