নাবালিকাকে বসিয়ে বেপরোয়া বাইকিং
কান ধরে ওঠ বস করালো পুলিশ

৩৬৫ দিন। শুক্রবার রাত তখন প্রায় ২ টো।‌ বাসন্তীর ঝড়খালির রাস্তা খাঁ খাঁ করছে। আচমকা নিঃশব্দতা ভেঙে প্রায় ঝড়ের গতিতে উদয় হয় তিনটি বাইক।‌ মুহূর্তের মধ্যে ধুলো ধোঁয়া উড়িয়ে তারা উধাও হয়ে যায় এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।‌ ওই সময় ঝড়খালির রাস্তায় টহল দিচ্ছিল ঝড়খালি কোস্টাল‌ থানার একটি গাড়ি। তিন বাইকের দাপাদাপি দেখে পুলিশের ওই গাড়ি থেকে ওয়াকিটকিতে খবর যায় থানায়। কালক্ষেপ না করে বাইক ধরো অভিযানে নেমে পড়ে ঝড়খালি কোস্টাল থানার বাইক বাহিনী। রীতিমত চেস করে তিনটি বাইককে পাকড়াও করা হয়। বাইক‌ থেকে নামানো হয় চারটি ছেলে ও একটি মেয়েকে।‌ সকলের পরিচয় পত্র চাওয়া হয়। সে সব খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ দেখে চারটি ছেলের সঙ্গে যে মেয়েটি রয়েছে সে নাবালিকা। বয়স ১৫ বছর।‌ নিয়ম মত পুলিশ ওই নাবালিকার পরিবারে খবর দেয়। চারটি ছেলেকে থানায় নিয়ে যেতে গেলে তারা কাকুতি মিনুতি করে জানায়, আর হবে না। ভুল হয়ে গেছে। শেষে ওই চারজনকে প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। ঝড়খালি কোস্টাল থানার দাবি, এই চারটি ছেলেকে আগেও বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে রোমিও গিরি করতে বারণ করা হয়েছিল। নিষেধ শোনেনি তারা।‌ কান ধরে ওঠবস করিয়ে ছাড়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা‌ নেওয়া হবে। যদিও যাদের কান ধরিয়ে ওঠ বস করানো হল তারা বলছে, পুলিশ তাদের থেকে জানতে চায় পিছনে নাবালিকা বসিয়ে এত রাতে কেন বাইক চালাচ্ছে তারা, এর জন্য-ই তাদের কান ধরে ওঠ বস করানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, বেপরোয়া গাড়ি বাইক চালানোর বিরুদ্ধে জেলা জুড়েই অভিযান চলছে। ঝড়খালিতে কী কারণে বাইক চালকদের ওঠ বস করানো হল‌ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Scroll to Top