সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে জলের স্রোতে ভেসে গেলেন মা
ঘাগরা জলপ্রপাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

৩৬৫ দিন। অশোক কুমার মণ্ডল। ঝাড়গ্রামের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে শনিবার বেড়াতে এসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে জলের তীব্র স্রোতে ভেসে গেলেন এক মহিলা। তাঁর খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপ্রপাতের সামনে ঘোরাঘুরির সময় আচমকাই পা পিছলে জলে পড়ে যায় ওই মহিলার শিশু সন্তান। সন্তানকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যে জলে ঝাঁপ দেন মা। এরপর জলের স্রোতে দু’জনেই ভেসে যান।
স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ওই মহিলার এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তাঁর উদ্ধারের জন্য জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও বেলপাহাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বেলপাহাড়ির ঐ পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিন বহু মানুষ বেড়াতে আসেন, ছুটির দিনগুলোতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। তা সত্ত্বেও ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যদি উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবসা থাকতো তাহলে শনিবার এমন ঘটনা ঘটতো নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। শনিবার দুপুর বারোটা দশ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়ার শিশুটিকে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার মায়ের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বারুইপুর থেকে পর্যটকদের দলটি বার বারুই বিপদজ্জনক ভাবে জলপ্রপাতের কাছাকাছি চলে আসছিল।‌ স্থানীয় কয়েকজন তাদের জলের কাছে আসতে নিষেধ করেন। কারণ, বর্ষার শেষে এই সময় জলপ্রপাতে জলের স্রোত খুব বেশী থাকে। জল ছিটকে পাথরে পড়ে ফলে সেখানে পা পড়লে হড়কে গিয়ে জলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শনিবার ঠিক সেটাই হল। প্রথমে নাবালক ছেলেটি পা স্লিপ করে জলে গিয়ে পড়ে তারপর তার মা ছেলেকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘাঘরা জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে ওই মহিলার খোঁজে।

Scroll to Top