ইকো পার্কের ঝিলে মাছের মড়ক

৩৬৫  দিন। নিউটাউনের ইকোপার্কের ঝিলে  হঠাৎ শুক্রবার  দেখা দিল ব্যাপক মাছের মড়ক। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে  শুক্রবার সকালে ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসা দর্শনার্থী ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের।তারা  দেখেন জলাশয়ের যত্রতত্র ভেসে রয়েছে অগণিত মরা মাছ।প্রায় ১৭০ বিঘা এই জলাশয়ে এই রকম আকারের মড়ক  হওয়াতে  ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।যদিও পার্ক কতৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে কেন এই ঘটনা ঘটলো তা জানার জন্য জল পরীক্ষা করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বোটিং সহ ঝিল ঘিরে একাধিক একটিভিটি বন্ধ রাখা হতে পারে। তবে এই প্রথম নয় এর আগেও এইভাবে মাছ মরে  গেছিলো ।
স্থানীয় ও হিডকো সূত্রে জানা গেছে  জলাশয়ে অক্সিজেনের আশঙ্কাজনক ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান দূষণই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হতে পারে । জলে আবর্জনা জমার পাশাপাশি অতিরিক্ত শৈবাল জন্মানোর ফলে  এই জলাশয়ের কিছু কিছু জায়গা  মূলত পাড়ের কাছের জায়গা  পুরো  সবুজ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলা এসব শৈবাল সালোকসংশ্লেষ করলেও, রাতে জল থেকে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন শোষণ করে নেয়। ফলে রাতের বেলায় জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং দমবন্ধ হয়ে প্রচুর মাছের মৃত্যু হয়।এই কারণেই মাছের মৃত্যু হচ্ছে বলে মনে  করা হচ্ছে । ইকো পার্ক কতৃপক্ষ জানিয়েছে ঝিলগুলি থেকে পাঁক ও কচুরিপানা তুলে পরিষ্কার করার কথা ছিল ।  এই ঝিলগুলির কয়েকটিতে মরা মাছ ভেসে ওঠায় সেগুলির রক্ষাণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দা ও প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, গার্ডেন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না ঝিলগুলির। এমনকী পাঁক ও কচুরিপানাও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। তাই জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় এত মাছ মরে যাচ্ছে।হিডকোর একাংশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন তাদের  মৎস্য দফতর জানিয়েছে গরমে এমনটা হয়। সিলভার কার্প জাতীয় মাছ এই তাপমাত্র সহ্য করতে না পেরে মরে ভেসে উঠছে। অনেক জায়গাতেই এটা হচ্ছে।বৃষ্টি হলেই ঠিক হয়ে যাবে।তবে  এপ্রসঙ্গে মৎস্যবিজ্ঞানীদের ধারণা  ইকো পার্কে জলাভূমির কৃত্রিম পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। অত্যধিক মোটরবোট চলে এখানে, যা থেকে দূষণ ছড়ায়। এগুলি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত বলেই তাদের অভিমত ।

Scroll to Top