‘৫ মে বলেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেসের নাম নিশান থাকবে না, আজ নেই ‘: শুভেন্দুর

৩৬৫ দিন। ৫ মে বলেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেসের নাম নিশান থাকবে না, আজ জোড়াফুল নেই, তৃণমূল নেই। এভাবেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের বি-ব্লক তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ৮০ জন এমএলএ-এর যার ৬৪ জন এমএলএ বলে মমতা কে মানি না। কে আসল কে নকল বোঝা দায়। মমতার এআইটিসি এখন গরুর গাড়ির হেডলাইট। পশ্চিমবঙ্গের কোথাও এদের নাম-নিশান পাবেন না। আগের শাসকদলের কোনও নাম নিশান নেই। দু’টি দল তৈরি হয়েছে। একটি মমতা তৃণমূল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল। যাঁদের কোনও চিহ্ন নেই রাজ্যে।
একযোগে আক্রমণ সিপিএম ও তৃণমূলকে
দিল্লিতে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ যে ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চ থেকে মমতা এবং সিপিএম সহ দেশের সমস্ত বিজেপি বিরোধী দল একজোট হয়েছে তার প্রেক্ষিতে মমতার তৃণমূল ও সিপিএমকে এক বন্ধনীতে টেনে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই রাজ্যে ৩৪ বছর শাসন করা লাল বাবুরা বিধানসভায় এক আর কংগ্রেস মাত্র দুই। তাও যদি কেও চায় তাহলেই ভোকাট্টা। পনের বছর শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি হারালাম ১৫ হাজার ভোটে। টাকা চুরি, আবাস চুরি, চাকরি চুরি এত বেকার, শিল্প ধ্বংস তার জন্য আর উপর ওয়ালার মার। এখন এদের নাম নিশান নেই।
রেজিনগরে শিল্প স্থাপনের প্রতিশ্রুতি
৬ অক্টোবর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক এই আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে ফের নির্বাচন। হুমায়ুন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে ভোট ময়দানে নামিয়েছেন। বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। মমতা তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন রবিউল আলম চৌধুরী। এই উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের হয়ে প্রচারে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রেজিনগর সরকারের সাথে থাকবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা তিনিও বিধানসভায় আমার সঙ্গে প্রবেশ করবেন তার নাম শাখারভ সরকার। কেউ আটকাতে পারবে না। রেজিনগরের মানুষ সম্প্রদায়ের বিভাজন নয়, তারা উন্নয়ন চায়। আমাদের ঋণে আবদ্ধ করুন। ৭০-৩০ শতাংশের গল্প শোনাবেন না। হিন্দু-মুসলিম করবেন না। ফলতার মতো রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা বানাব। সরকারের পক্ষে ভোট করুন। শাখারভ সরকারকে আমার পাশে পাঠান।রেজিনগরের পরিযায়ী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ৪০ হাজার শ্রমিক। ২ বছরে ফেরত নিয়ে আসব। রেজিনগরকে নিজের হাতে সাজাব। আগামী ৬ মাস ১২৫ দিনের কাজ দিচ্ছি। রেজিনগর শিল্পতালুক আমার দায়িত্ব। জমি দেখে নিয়েছি। দেড় বছরের মধ্যে কারখানার ধোঁয়া দেখতে পারবেন। বিশ্বাস রাখুন। শ্রমিকরা এখানেই কাজ করবে।
তীব্র আক্রমণ হুমায়ুনকে
গত সপ্তাহেই রেজিনগর গেছেন সভা উপনির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক তথা প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনা করেছিলেন। হুমায়ূনের সেই বক্তব্যকেই নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগাতে শুভেন্দু আজ বলেন, বাকি থাকল একদল। তিনি বলছেন অজিত পাওয়ায় প্লেন অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেল। রাজীব গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী আততায়ীর হাতে খুন হয়েছে। বলছেন শুক্রবার ওপর ওয়ালা কাছে প্রার্থনা করব যাতে তাকে তাড়াতাড়ি তুলে নেয়। রাজনীতির ময়দানে লড়াই হবে। বাক্য বিনিময় তর্ক আলোচনা সমালোচনা হবে। একজন জিতবে অন্যজন হারবে। আর হুমায়ুন সাহেব বলছেন, তুলে নেয় তাড়াতাড়ি যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে। আপনার লোকেরা সরে গেছে আপনার থেকে। আমরা শত্রুকে এমন বলি না। বিচারের ভার দিয়ে গেলাম রেজিনগরের মানুষের কাছে।
মৃত জেসমিনার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
রেজিনগরে তৃণমূল বি প্রার্থীর প্রচারের সময় লজেন্স কুড়োতে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীর গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়েছিল 6 বছরের শিশু কন্যা জেসমিনা। আজ প্রচারের ফাঁকে জেশমিনার বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে চান। পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, আমি আছি। এখন নির্বাচনী বিধি বলবৎ আছে। তাই সরকারি ভাবে কিছু করা যাবে না। ৯ অক্টোবরের পরে যা করার আমি করব।

Scroll to Top