ভিলেন গুরপ্রীত, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪ গোল খেলেও লড়ল ভারত

ভারত – ০
ব্রাজ়িল – ৪ (লিনো ২, এস্তেভাও, পেদ্রো)

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। আমাজনের গভীর অরণ্য থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর ফুটবলকে লাতিন আমেরিকার রঙিন চশমা যারা প্রথম পড়িয়েছিল সেই ফুটবল দলের নাম ব্রাজিল। ব্রিটিশরা ফুটবল আবিষ্কার করলেও তাকে রূপ দিয়েছিল ব্রাজিলিয়ানরা। একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বর্তমানে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে ভারত টিমটিম করছে ১৩৮ নম্বরে। কিন্তু শনিবারের যুবভারতী দেখল, ভারতীয় দলও লড়তে পারে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ব্লু টাইগার্স চোখে চোখ রেখে পালটা দিতে পারে।স্কোরলাইন যাই বলুক না কেন, ৯০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ৬০ মিনিট লড়াইটা হল সেয়ানে সেয়ানে।
পানামার বিরুদ্ধে ড্র করার পর থেকে মনবীর সিংদের নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের আশা বেড়েছিল। কিন্তু ভারত যে ২৮ মিনিট পর্যন্ত সেলেকাওদের আটকে রাখবে, স্রেফ আটকে রাখা নয়-মাঝেমাঝে আক্রমণও শানাবে, কে ভাবতে পেরেছিল? তার কৃতিত্ব অবশ্যই রক্ষণের স্তম্ভ আনোয়ার আলির। ঠাণ্ডা মাথায় নেতৃত্ব দিলেন দলের ডিফেন্স লাইনকে, দরকার মতো আটকে দিলেন সাম্বা আক্রমণ। রক্ষণে আকাশ মিশ্রর কথাও আলাদা করে বলার মতো।পরিসংখ্যান বলছে, ভারতও সাতটি শট মেরেছে। তার মধ্যে দু’টি টার্গেটে। মনবীর এবং রায়ান দু’জনেই গোলের অনবদ্য সুযোগ তৈরি করেছিলেন। হয়তো প্রতিপক্ষের নাম ব্রাজিল না হলে তাঁদের শটগুলো আরও কার্যকর হতে পারত। কিন্তু সেলেকাও রক্ষণ এবং গোলকিপারদের দক্ষতায় ভারতের খাতা খোলা হল না। তবে শনিবার দুই ফরোয়ার্ড, দুই ডিফেন্ডার যেভাবে যুবভারতী মাতালেন তাতে ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা আশার আলো দেখতেই পারেন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হল প্রভসুখন সিং গিলের। দু’টো গোল খেলেও ফুটবল জনতা মনে রাখবে, গুরপ্রীত সিং সান্ধু যখন একের পর এক ক্ষমার অযোগ্য ভুল করছেন তখন এই গিলই সাহস করে তেকাঠি বাঁচাতে নেমেছিলেন।খালিদ জামিলকে নিয়ে ফুটবলমহলে রয়েছে নানা সমালোচনা। তাঁর অধীনে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও মোটেই আশাপ্রদ নয়। কিন্তু পানামা আর ব্রাজিল ম্যাচে তিনি যেভাবে স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছেন, তার উপর ভিত্তি করেই ভারতীয় ফুটবলাররা মাঠে ঝলমল করলেন। বিশ্বকাপ খেলে আসা দলকেও দেখিয়ে দিলেন, শুধু ক্রিকেট নয়, ভারতে ফুটবলটাও হয়। ভারতে খেলতে আসার আগে ব্রাজিল হেডস্যর কার্লো আন্সেলোত্তি খানিক তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, ভারতে তো ফুটবল সংস্কৃতিই নেই, ওরা অন্য় খেলায় ভালো। কিন্তু যুবভারতী ছেড়ে বেরনোর আগে তিনি নিশ্চয় মনে রাখবেন, ফুটবল ‘সংস্কৃতি’ না থাকলেও একঝাঁক ফুটবলার ভারতের আছে যারা দেশের জার্সিতে ডেভিড-গোলিয়াথের লড়াই চালিয়ে যায়। এস্টেবাও, লিনো, পেদ্রোরা কলকাতা থেকে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরবেন তাতে তারা বুঝতে পারবেন ভারতীয় দল ফুটবলটা খেলতে জানে। শুধু দেশের মানুষ এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বিভিন্ন রাজ্যের ছড়িয়ে পড়লে ভারতের জাতীয় দল অনেক অঘটন ঘটাতে পারে। আগামী ৬ তারিখ ভারত বনাম উরুগুয়ে। আজকের পারফরমেন্স ভারতকে ওই ম্যাচে নিঃসন্দেহে ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করবে।

Scroll to Top