খবর ৩৬৫। সাতসকালে পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীর গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। রোমহর্ষক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার তারকনগর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীক আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগ নেয় অভিযুক্ত সমীর মজুমদার। সে তার ছোট ছেলে বাবুসোনার মাধ্যমে মাঠে থাকা স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে পাঠায়। মায়ের আসার পর পরই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা ও গন্ডগোল শুরু হয়। এরপর ছেলে বাবুসোনাকে বাড়ি থেকে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পরেই সমীর মজুমদার তার দুই সন্তানকে নিয়ে স্টেশনের দিকে এগোতে শুরু করে। তার এই অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এলাকাবাসী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সমীর নিজেই জানায় যে সে তার স্ত্রীকে খুন করেছে। এই কথা শোনার পরেই প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে যান তাদের বাড়িতে। ঘরের ভেতরে গিয়ে তারা দেখেন, মাটির মেঝের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্ত্রী সুমিত্রা মজুমদারের নিথর দেহ।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্ত সমীর মজুমদারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য তা শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তিকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে অনুমান করছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে থমথমে ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।





