৩৬৫ দিন। কথাকলি দত্ত। বিজ্ঞানীরা বলেন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষ ব্যতীত সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বুদ্ধিমান ২ প্রজাতি শিম্পাঞ্জি এবং ওরাংওটাংরা আজও প্রকৃতির সঙ্গে সারভাইভ করছে একটাই কারণে, তারা পারিবারিক অনুশাসন মেনে চরে। অবশ্য হাতিদের ক্ষেত্রেও এটা দেখা যায়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এবং সারভাইভাল স্ট্রাটেজি বড়দের থেকে ছোটরা বা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম। প্রবাহিত হয় এই প্রাণীদের মধ্যে। ফলে একা পড়ে গেলে বা নিঃসঙ্গ হলেও কিংবা বিপদে পড়লেও ছোটরা সারভাইভ করতে পারে। ক’দিন আগেই বালেশ্বরের জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া, ওরাং ওটাং শিশুদের মা ছাড়া অপরিচিত অরণ্যে,পরিবেশে বেঁচে থাকার একটাই কারণ ছিল এটা। সুদূর বোর্নিও থেকে চোরা পথে এদের আনা হয়েছিল। কোনরকম প্ল্যানিং ঘেঁটে যাওয়ায় ওদের জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।
কিন্তু আশ্চর্যভাবে ওরাংওটাং শিশুগুলো একে অপরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে, সার্ভাইভ করে গিয়েছে। বিরলতম এই বাঁদরের প্রজাতি বিশ্বে একমাত্র বর্ণিয় এবং সু মাত্রা অঞ্চলে পাওয়া যায়। চোরাশিকারীর হাত থেকে এদের বাঁচাতে বিগত ২৫ বছর ধরে বোর্নিও প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা প্রাণপণ লড়াই করছে। একইসঙ্গে মাতৃ কিংবা পরিবারহীন শিশুদের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে রেখে তাদের শুধু জীবন বাঁচানোই নয়, গোটা বিশ্বের কাছে বোর্নিও ওরাংওটাং ব্র্যান্ডিং প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। 
দুর্ভাগ্য এতদিনেও আমরা সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক করে তুলতে পারলাম না। সেপিলক থেকে লম্বা সফর দিয়ে পাঁচতারা রেইন ফরেস্ট রিসর্টে পৌঁছে যাওয়া মানেই, ওরাং ওটাং দের আরো কাছাকাছি চলে আসা। এখান থেকে খানিকটা পথ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পার হলেই, বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ওরাং ওটাং রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ,একটু ধর্য্য ধরলেই দেখা পাওয়া যাবে ডজন খানেক ওরাংওটাং। পাম গাছের বিস্তীর্ণ অরণ্য দিয়ে ঘেরা, এই ওরাংওটাং সেন্টার রেইন ফরেস্টের আকাশছোঁয়া,মানে ন্যূনতম যাদের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৭০ মিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ ৫ থেকে ১৫ তলা বাড়ির উচ্চতার বাদাম, মেনেরা,বেলিয়ান, স্ট্রাংলিং, মেহগিনি , পাইনের মত সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির ঘন অরণ্য দিয়ে ঘেরা এই সেন্টার। মাটি থেকে ৪০ ফুট উচ্চতায় ক্যানোপি ওয়াক পর্যটকদের সামনে এনে দেবে ওরাংওটাংদের দুনিয়া। যেখানে নির্দিষ্ট সময় তাদের জন্য রাখা খাবারের জন্য দল বেঁধে হাজির হয় ওরাং ওটাংরা। পর্যটকদের সামনে নির্ভয়ে ওরা হেটে যায় খাবার খায় খুনসুটি করে। কোলে শিশু নিয়ে মায়েরা মোটা দড়ি ঝুলে চলে আসে মাটি থেকে ৬০ মিটার উচ্চতায় তৈরি ওদের ডাইনিং প্ল্যাটফর্মে। অবশ্য খাবার দেখ লে লোভ সামলাতে না পেরে কিছু বাদরের দলেরও দেখ আজ মেলে। ওরাংওটাং ওদের বাকি প্রজাতিদের থেকে একটু আলাদা, এরা শিম্পাঞ্জি বা গরিলাদের মত মাটির কাছে বাসা বানায় না। উঁচু গাছের মাথায় নরম পাতার বিছানা বানিয়ে শোয়। বর্ণিয়োর আরেক আশ্চর্য বাঁদর, বিশাল রকম লম্বা নাকওয়ালা প্রবোসিস বাঁদররা এদের জন্য হুইসেল ব্লোয়ার এর কাজ করে। বিপদ দেখলেই ডাকে, এরা নিরাপদে লুকিয়ে পড়ে। যদিও ডাবলু ডাবলু এফ এফ রিপোর্ট অনুযায়ী বিগত ৫০ বছরে বর্ণীয় ও সুমাত্রা মিলে ৩৫ হাজারের বেশি ওরাং ওটাং পোচিং হয়েছে, কিংবা উধাও হয়েছে। বর্তমানে এদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে মালয়েশিয়া প্রশাসন। ড্রোনে নজরদারি, এবং পর্যটকদের সামনে ওরাংওটাং ব্র্যান্ডিংকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় বছর ধরে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জঙ্গল কেটে পাম ওয়েলের ব্যবসা তুঙ্গে উঠেছে। বিশ্বের সেরা পামওয়েল এই অঞ্চল থেকেই আসে। দেশের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশ দাঁড়িয়ে আছে পাম তেলের রপ্তানির ওপর। ফলে একদিকে মাইলের পর মাইল পাম গাছ, অন্যদিকে এই বর্ষা বনকে বাঁচানোর সমান্তরাল প্রয়াস চলেছে।
বর্ণীও থেকে বালেশ্বর
মায়ের শিক্ষা থেকে এক পা নড়ে না
- khabar365din
- November 1, 2026
- 3:04 pm
- No Comments





