দিল্লিতে ধরপাকড়, জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে ফের আন্দোলন

৩৬৫ দিন। পুজো মিটতেই জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে আন্দোলনে ফের গতি এল।‌ শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের কাছে পুলিশ বিক্ষোভকারী ধ্বস্তাধ্বস্তিতে উত্তেজনা ছড়াল। শুক্রবারের এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল নাগরিক মঞ্চ ‘দিল্লি কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ পিপল এগেনস্ট এসআইআর’। বৃহস্পতিবার-ই তারা জানিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশের কাছে তারা মিছিলের জন্য কোনো অনুমতি নেবে না। তারা মিছিল করবে পুলিশ যেখানে তাদের আটকাবে সেখানেই প্রতিবাদ হবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মিছিলে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবারের মিছিলে যোগ দেয় ক্রান্তিকারী যুব সংগঠন, সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই ছাড়াও একাধিক সংগঠন এই মিছিলে শামিল হয়। মিছিলে ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, সমাজসৈনিক যোগেন্দ্র যাদব।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে যোগেন্দ্র লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। এসআইআর বাতিল হোক। ২০২৩ সালের় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল হোক।” মিছিল শুরুর আগে দুপুর ২টো নাগাদ বিক্ষোভকারীরা দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের সামনে জমায়েত করেছিলেন। তার কিছু আগেই ট্রাফিক পুলিশের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা চত্বরে না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাতে সময় নিয়ে বেরোতে বলা হয় পথচারী এবং গাড়িচালকদের। শুক্রবার মিছিল শুরু হতেই তা আটকে দেয় পুলিশ।‌ আন্দোলনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয় ১৬৩ ধারা জারি থাকায় জমায়েত বা মিছিল করা যাবে না। পুলিশ মিছিল আটকালে বেশ কিছুক্ষণ দুপক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। কয়েকজনকে আটক করা হয়। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট পুলিশ ও কেন্দ্রের ভুমিকার সমালোচনা করে বলেন, ছাত্র যুব সহ সমাজের সব স্তরের মানুষ এস আই আরের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি অথচ আমাদের ওপর পুলিশ লাঠি চালাচ্ছে। গোটা দেশকে যন্তরমন্তর করতে চাইছে কেন্দ্রের সরকার। এরপর নাম করে মোদিকে আক্রমণ করে বৃন্দা বলেন, মোদি দেশের সংবিধানের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
আন্দোলন বাড়বে, বাড়তি বাহিনী রেখে দিল কেন্দ্র
১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ‘যন্তরমন্তর ২.০’ কর্মসূচীকে ঘিরে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল দিল্লিকে। ৪০ হাজারের বেশী আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে মাছি গলতে না পেরে। যে ব্যবস্থা দেখে ককরোচরা কটাক্ষ করে বলেছিল, এ তো ভয় কেন! সিজেপি বা বিরোধীরা যাই বলুক, দিল্লিতে অক্টোবরের শেষ ৮ দিনেও বাড়তি বাহিনী রেখেই দিচ্ছে কেন্দ্রীয়‌ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র মনে করছে, পুজো কেটে গিয়েছে দিওয়ালী আসতে এখনো প্রায় দু সপ্তাহ বাকি আছে এই সময়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরো বাড়বে। তাই এখন-ই বাহিনী প্রত্যাহার করা ঠিক হবে না। নিরাপত্তায় কোনও ঢিলেমি দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক যে কোনো কর্মসূচিতে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়া‌ হবে না। এছাড়া বাসস্টপ, মেট্রো, রেল, এয়ারপোর্টে যেমন নজরদারি চলে তেমন চলবে।

Scroll to Top