থ্রি ইডিয়টস’এ এবার জেন জি আন্দোলন

৩৬৫ দিন।১৭ বছর বাদে ফিরছে রাজকুমার হিরানি এবং আমির খানের ব্লকবাস্টার ছবি থ্রি ইডিয়টস। জনপ্রিয় বা সুপারির ছবির সিকুয়েল বিশ্বজুড়ে অনেক হয়, এদেশেও কম হয়নি। কিন্তু থ্রি ইডিয়টস সিকুএলে রয়েছে রাজনৈতিক চমক। ভারত জুড়ে চড়া চলা ছাত্র আন্দোলন এবার থ্রি ইডিয়টস এর রাঞ্চোর চরিত্রকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে এমনটা ইঙ্গিত দিয়েছেন গল্পকার চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক রাজকুমার হিরানি। তবে চিত্রনাট্যলেখা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, কিছু কাজ নতুন করে এডিট করা হচ্ছে। জানিয়েছেন পরিচালক।
দর্শকদের এবং চলচ্চিত্র মহলের একটাই প্রশ্ন, তবে কি দেশ জুড়ে চলা ককরোচ আন্দোলন এই ছবির মূল বিষয় হতে চলেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করার পর, রাঞ্চো , ফারহান এবং রাজু, প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছিল। এবং সফলতা অর্জন করেছিল। ফলে এবারের গল্পে দেশ জুড়ে চলা দুর্নীতির বিরুদ্ধে থ্রি ইডিয়টসকে লড়াইয়ের মঞ্চে দেখা যাবে বলেই জানা যাচ্ছে। শুক্রবার সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে থ্রি ইডিয়টস এর সিক্যুয়েল নিয়ে এমনই নতুন আপডেট দিলেন আমির খান। ছবির পরিচালক রাজকুমার হিরানি এখন চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইনাল স্ক্রিপ্ট আমিরকে শোনানোর কথা তাঁর। ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই সিক্যুয়েল নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়ল। তবে ছবির শুটিং কবে শুরু হবে কিংবা কবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন আমির খান। সেখানে তাঁকে স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করা হয়। উৎসবের মঞ্চেই থ্রি ইডিয়টস এর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অভিনেতাকে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার আগে পরিচালক রাজকুমার হিরানির অনুমতি নেওয়ার কথাও জানান আমির।তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে সবটা প্রকাশ্যে বলার অনুমতি নেই।
তবে এটুকু জানাতে পারেন যে, রাজু অর্থাৎ রাজকুমার হিরানি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে মুম্বইয়ে ফিরে চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত সংস্করণ শোনার আশা করছেন তিনি। সেই কারণেই এখন অপেক্ষা করছেন আমির। একইসঙ্গে নতুন থ্রি এডিটসের গল্পে গল্পে রাজকুমার হিরানি কি ধরনের প্লট রাখছেন সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, আমির বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন অবশ্যই একটা বিষয় হতে পারে।
রাজু ভালো বলতে পারবেন। এই একই প্রসঙ্গে কদিন আগে রাজকুমার হিরানিকে মুম্বাইয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, গোটা বিশ্বজুড়ে ছাত্র আন্দোলন একটা বড় ভূমিকা নিচ্ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে নেপাল শ্রীলংকা থেকে স্পেন ফ্রান্স জার্মানি আমেরিকা পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্ণ জাত ধর্ম এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে, জেনজি বা তরুণ প্রজন্ম, নতুন এক আন্দোলনের ধারা তৈরি করে করেছে। এসেও তার ব্যতিক্রম নয়। হতেই পারে থ্রি ইডিয়টস এর তিনজন বোকা, এমনি কোন আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাহলে কি ককরোচ আন্দোলনকে মাথায় রেখেই আপনি চিত্রনাট্য লিখছেন? প্রশ্ন করা হলে খানিক এড়িয়ে গিয়ে রাজকুমার জবাব দেন, ককরোজ তো একটা নামমাত্র, এটা একটা ব্র্যান্ডিং। আসল বিষয়টা হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে তরুন ছাত্র যুবদের প্রতিবাদ। সেটা যে কোন দেশের যেকোনো রাজ্যের যে কোন জায়গায় হতে পারে। ছাত্র আন্দোলন পৃথিবীর বুকে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এবং সামাজিক ক্ষেত্রে দাগ ফেলে গিয়েছে। এদেশেও স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ছাত্র যুব রা জড়িয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে। তাহলে তাদেরকে অস্বীকার করি কি করে। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতজুড়ে চলা গেঞ্জি ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক ছিলেন তার থ্রি ইডিয়টস গল্পের মূল অনুঘটক। তার জীবনী তার লড়াই এবং আদর্শকে নিয়েই পরিচালক ১৭ বছর আগে থ্রি ইডিয়টস এর গল্প রচনা করেছিলেন।
রাজকুমার কিংবা আমি যাই বলুন না কেন, চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা একই সুরে বলছেন, ছাত্র আন্দোলন কে কেন্দ্র করে রাজকুমারের আগামী থ্রি ইডিয়টসের গল্প তৈরি হচ্ছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এখন দেখার ছবির গল্পের অভিমুখ কোন দিকে যায়। একইসঙ্গে এটাও বলা যায় ককরোচ কিংবা জেন জি আন্দোলনে সেই সোনম ওয়ানচুক ছিলেন কেন্দ্র বিন্দুতে। যার অনশন নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসনকে। ফলে নতুন থ্রি ইডিয়টসে এটাও একটা বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যে রাঞ্চো হয়তো হয়ে উঠবেন রাজনীতির সোনম।

Scroll to Top