তদন্ত কমিটির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে স্বেচ্ছাচারীভাবে গত এক বছরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আগেই। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার বারে বারে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার কিভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন দেশের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত আরটিআই আবেদনের জবাবে জানা গিয়েছে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে স্বীকার করে নিয়েছে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার যে চিঠি দিয়েছিলেন জ্ঞানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে সেই চিঠি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট সেক্রেটারির কাছে পৌঁছালেও তার প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে একথা স্বীকার করে নেওয়ার পরেই এবার সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্তরে দুর্নীতিগ্রস্তদের আখড়া তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে জনস্বার্থের মামলা দায়ের হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এক আইনজীবী জনস্বার্থের মামলা দায়ের করে দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি অথবা বর্তমান কোন বিচারপতির নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গত এক বছরের যাবতীয় কার্য বিবরণী এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত করে দেখা হোক।

এক বছরের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদের ফায়দা তুলে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে বাদ দিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার দেশের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে চিঠি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক তথ্য অধিকার বা আরটিআই আইনের জবাবে বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ অক্টোবর এই জবাব দেওয়া হয়েছে। আরটিআই-এর সেই উত্তরে নিশ্চিত করা হয়েছে যে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর লেখা ওই দুটি চিঠিই গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিবের দফতরে পৌঁছয়। ৫ অগস্টের মধ্যে ক্যাবিনেট সচিব সেই চিঠিগুলি কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দফতরে পাঠিয়ে দেন। ক্যাবিনেট সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিগুলি ছিল সিনিয়র ডেপুটি কমিশনার মণীশ গর্গ এবং তাঁর জারি করা একটি আদেশ সংক্রান্ত, যার মাধ্যমে সিনিয়র আধিকারিকদের মধ্যে কাজের বণ্টনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দুই কমিশনার অভিযোগ করেন যে, কমিশনের সঙ্গে বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কোনও পূর্ব আলোচনা ছাড়াই এই পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে। তবে দুই নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের লেটারহেডে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির কাছে চিঠি পাঠিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও সেগুলি যেহেতু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের লেটারহেডে লেখা হয়নি এমন যুক্তি দেখে ব্যক্তিগত অভিযোগের স্তরে ফেলে দিয়ে সেগুলির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। আর ঠিকই এই ঘটনা সামনে আসার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার কেন কোন ব্যবস্থা নিল না তার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গত এক বছরের যাবতীয় কার্যবিবরণী এবং কোন সিদ্ধান্ত কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল তা জানার জন্য মামলা দায়ের হলো সুপ্রিম কোর্টে।
মামলায় কি দাবী করা হয়েছে
রাকেশ তিওয়ারি নামে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থের মামলা দায়ের করে গোটা বিষয়টির প্রেক্ষিত স্পষ্ট করে দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কমিশনারদের উপরে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সুপ্রিমকোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করুক সুপ্রিম কোর্ট। এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে অবশ্যই থাকতে হবে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচার প্রতিপাদন মর্যাদার কাউকে অথবা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এমন কোন ব্যক্তিকে।

Scroll to Top