শিলিগুড়িতে বামেদের বুক স্টল ঘিরে বিতর্ক। বুক স্টল, বুক স্টলের অঙ্ক তিন লাখ ছাড়িয়ে। মার্কসীয় সাহিত্য ও প্রগতিশীল বই বিক্রয়কেন্দ্র বুক স্টল ঘিরে উৎসবের প্রথম থেকেই বিতর্ক তুমুল। পুজোর দিনে বামেদের স্টলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোচ্চার হয়েছেন বাম নেতা-কর্মীরা। এমনকি সর্বস্তরে বইপ্রেমী মানুষও। শিলিগুড়িও ব্যতিক্রম নয়। হিলকার্ট রোডে বামেদের বুক স্টলে বই বিক্রয়ে বাধা ও হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশ পৌঁছেছে। বাম নেতাদের পাশাপাশি শহরের বিবেকবান মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। দার্জিলিং জেলা বাম নেতৃত্ব নুরুল ইসলাম ও দিলীপ সিং সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন। বাম নেতৃত্ব জানান, শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোড-সহ ব্লকে ব্লকে মাটিগাড়া ও নকশালবাড়িতে বামেদের বুক স্টলের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনা আগে কখনও হয়নি।
স্টলে দুর্গা ঠাকুরের ছবি নেই কেন? ধর্মবিরোধী বই নাকি বিক্রি করা হচ্ছে—এ ধরনের অযৌক্তিক প্রসঙ্গ তুলে হামলা চালানো হয়। পরে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, বইয়ের ওপর হামলা ঠিক হয়নি। তবে বামমনস্ক মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিবাদস্বরূপ বই ক্রয় করেছেন। জেলার বাম নেতৃত্ব নুরুল ইসলাম জানান, শিলিগুড়ি শহর-সহ মহকুমায় প্রতি ব্লকে বামেদের বুক স্টল করা হয়, যা প্রতি বছরই হয়ে থাকে। এবার শিলিগুড়ি মহকুমায় তিন লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ন্যাশনাল বুক এজেন্সি ও প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স-সহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বিভিন্ন রকমের বই ব্যাপক বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কিছু প্রকাশনা সংস্থা, যারা যুক্ত, তাদের নানা রকমের বইও বিক্রি হয়েছে। রাজ্য কমিটিতে এই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ সব রকমের পুস্তক বিক্রয়কেন্দ্রে ছিল। তবে যে হামলা হয়েছে, তা শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনষ্ট করেছে। এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসে কখনও হয়নি। এই শহরের রাজনীতি চিরকাল অন্য রকমের। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেল চারটায় নাগাদ বাঘাযতীন পার্ক থেকে বই পড়ুন, বই বাঁচান, বাংলার শিক্ষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হবেন বামেরা। বামফ্রন্টের সমস্ত দল একত্রিত হয়ে বামপন্থী ও প্রগতিশীল সাহিত্যের বুক স্টলে সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণের প্রতিবাদে ডাক দিয়েছে।




