হাবাসকে ভরসা দিচ্ছেন লোবা, ওমান থেকে জিতে ফেরার শপথ লাল হলুদের

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকে ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমবার প্রথম একাদশে ছিলেন একে লোবা। আর তিনি জোড়া গোল ও অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন। এএফসির ম্যাচেও কি তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন? হাবাস কিছুটা ধোঁয়াশা রাখলেন। জানালেন সামনে টানা ম্যাচ থাকায় পরিস্থিতি ও প্লেয়ারদের ফর্মের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একটা কথা পরিষ্কার এই আইভরি কোস্ট এর খেলোয়াড়টির পারফরমেন্স দেখে। ইস্টবেঙ্গলে থাকতেই এসেছেন তিনি।
কপাল ভালো থাকলে এবং যদি চোট না পান তাহলে এই আফ্রিকান লাল হলুদ জার্সিতে ভবিষ্যতে অনেক ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। কয়েক বছর আগে তার একটা অপারেশন হয়েছিল। সেই চোট না বিরক্ত করলে লোবা কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের জন্য দারুন রিক্রুট। লোবার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি জায়গা নিতে পারেন, বল ধরতে এবং ছাড়তে পারেন নিখুঁতভাবে। মাথাটা পরিষ্কার। টাচ ভালো। এটাই একজন বড় ফুটবলারের গুণ। হাবাস নিজেও মনে করছেন লোবা যত সময় যাবে নিজেকে আরও বেশি করে মেলে ধরবে। তার একটা আপ ফ্রন্টে স্বাভাবিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আছে। সঙ্গে পোল্যান্ডের লুকাস যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং ফিনিশ করতে পারেন। এছাড়া ভারতীয় গোলগেটার ডেভিড রয়েছেন। একটা সময় তাকে বসিয়ে রেখে ছন্দপতন ঘটিয়েছিলেন আগের কোচ অস্কার। হাবাস ডেভিডকে খেলিয়ে খেলিয়ে ছন্দে নিয়ে এসেছেন। ইন্টার কাশীকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট ঘরে তোলার পর পুনে থেকে সরাসরি এএফসি খেলতে ওমানে উড়ে যাবে। ২৭ তারিখ আল সিবের বিরুদ্ধে খেলবে লাল হলুদ। সেই ম্যাচের আগে মাত্র একদিনের সময় পাবে। ফলে সেই চ্যালেঞ্জটা মাথা রেখেই ওমান উড়ে যাবে হাবাসের ছেলেরা। যুবভারতীতে ইরাকের দলের বিরুদ্ধে একটা সময় দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও যেভাবে তিনটি গোল হজম করতে হয়েছিল সেটা নিয়ে দুঃখ পেয়েছিলেন লাল হলুদ সমর্থকরা। ডিফেন্সের কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছিল সেদিন। ওমানে সেটা যাতে না হয় তার জন্য রক্ষণ এবং মাঝমাঠের দূরত্ব কম রাখার প্র্যাকটিস করিয়েছেন লোপেজ হাবাস। মধ্যপ্রাচ্যের দলগুলো ভারতীয় ফুটবলারদের থেকে শারীরিকভাবে কিছুটা এগিয়ে। উচ্চতার একটা অ্যাডভান্টেজ পায় তারা। ফলে সেট পিস নিয়েও আলাদা ভাবনা রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। ওমানের দলটার বিপক্ষে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত শতাব্দী প্রাচীন লাল হলুদ। আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই মশাল বাহিনীতে। এর আগে দুটো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। একটি কুয়েত এবং অন্যটি ইরাকের দলের বিপক্ষে। ফলে ওমানের ফুটবলের মান এইসব দলের থেকে খুব একটা নিচুতে নয়। ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয় ফুটবলারদের মধ্যে বিপিন, বিষ্ণু এবং এডমন্ডের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়নরা।

Scroll to Top