৩৬৫ দিন।রানি দত্ত শর্মা। দ্বিতীয় পর্যটন মরশুমের আগে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে নতুন সাজে সেজে উঠছে উটির সরকারি বোটানিক্যাল গার্ডেন। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা দ্বিতীয় পর্যটন মরশুমকে সামনে রেখে বাগানের বিভিন্ন অংশে ফুলের গাছ লাগানোর কাজ জোরকদমে চলছে। এ বার প্রায় চার লক্ষ ফুলের গাছ, যার মধ্যে প্রায় ৪৫টি প্রজাতি রয়েছে, রোপণ করা হবে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাড়ে পর্যটকের ভিড়
নীলগিরি জেলায় সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও বছরের দুটি সময়ে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। প্রথম পর্যটন মরশুম এপ্রিল ও মে মাসে। এই সময়ে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জায়গা থেকেও বিপুল সংখ্যক পর্যটক উটিতে আসেন। এই মরশুমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বার্ষিক ফুল প্রদর্শনী। অন্য দিকে, দ্বিতীয় পর্যটন মরশুম চলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর জুড়ে। এই সময়ে তামিলনাড়ুর বাইরের রাজ্যগুলি থেকে যেমন পর্যটক আসেন, তেমনই বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাও বাড়ে। শরতের মনোরম আবহাওয়া এবং নীলগিরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই সময়ে উটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আনুষ্ঠানিক ফুল প্রদর্শনী না থাকলেও থাকছে বর্ণময় আয়োজন
দ্বিতীয় পর্যটন মরশুমে আলাদা করে কোনও আনুষ্ঠানিক ফুল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় না। তবে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সরকারি বোটানিক্যাল গার্ডেনকে ব্যাপক ভাবে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন ফুলের বেডের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ হাজার ফুলের টব দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের নান্দনিক প্রদর্শনী। ফলে ফুলের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী না থাকলেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাগানে ঢুকলেই পর্যটকদের চোখে পড়ে রঙের বাহার। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের পাশাপাশি সাজানো গাছ, নকশা করা ফুলের বেড এবং টবের বিন্যাস বাগানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে।
ইতালিয়ান গার্ডেনে ইতিমধ্যেই শুরু রোপণ
বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুলের বেড তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে ইতালিয়ান গার্ডেনে গাঁদা, ডালিয়া, ডেইজি এবং ক্যালেন্ডুলার মতো বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাগানের অন্যান্য অংশেও রোপণের কাজ করা হচ্ছে। বাগানের প্রধান প্রবেশপথের আশপাশে ইতিমধ্যেই সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাপানি গার্ডেনেও নতুন করে ফুলের গাছ লাগানোর প্রস্তুতি চলছে। পর্যটকেরা যাতে প্রবেশের পর থেকেই বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
টোপিয়ারিতে ‘আই লাভ উটি, বাড়ছে আকর্ষণ
ফুলের বেডের পাশাপাশি বাগানের বিভিন্ন অংশে শোভাময় গাছকে নির্দিষ্ট আকারে ছেঁটে তৈরি করা হচ্ছে টোপিয়ারি। গাছ দিয়ে নানা আকৃতি ও নকশা তৈরির এই শিল্প পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এ বারও তেমনই একাধিক টোপিয়ারি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে ‘আই লাভ উটি’লেখা টোপিয়ারি। পর্যটকদের ছবি তোলার অন্যতম পছন্দের জায়গা হয়ে উঠবে এই বিশেষ প্রদর্শনী, এমনটাই আশা কর্তৃপক্ষের।
৩৫ হাজার টবে ফুল ফোটানোর প্রস্তুতি
শুধু মাটির ফুলের বেড নয়, বাগানের বিভিন্ন অংশে সাজানো হবে প্রায় ৩৫ হাজার ফুলের টব। এই টবগুলিতে উপযুক্ত প্রজাতির ফুলের গাছ লাগিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। কোথায় কোন প্রজাতির ফুল থাকবে, কী ভাবে টবগুলি সাজানো হবে-তা নিয়েও চলছে পরিকল্পনা।কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, দ্বিতীয় পর্যটন মরশুম শুরু হওয়ার আগেই বাগানের সৌন্দর্যায়নের যাবতীয় কাজ শেষ করা। পর্যটকেরা যাতে ফুলের রং, নকশা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনোরম সমন্বয় উপভোগ করতে পারেন, সে ভাবেই সাজানো হচ্ছে গোটা চত্বর।
পর্যটন মরশুমের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
পর্যটন মরশুম যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বোটানিক্যাল গার্ডেনকে সাজিয়ে তোলার তৎপরতা। ফুলের গাছ রোপণ, ফুলের বেড তৈরি, টোপিয়ারি নির্মাণ এবং টবে গাছ লাগানোর কাজ একই সঙ্গে চলছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে উটির বোটানিক্যাল গার্ডেন পর্যটকদের জন্য নতুন রূপে ধরা দিতে চলেছে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এমনিতেই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য উটি। তার সঙ্গে যদি যোগ হয় চার লক্ষ ফুলের রঙিন সমারোহ, ৩৫ হাজার ফুলের টব এবং নানা আকৃতির টোপিয়ারি, তা হলে দ্বিতীয় পর্যটন মরশুমে বোটানিক্যাল গার্ডেনের আকর্ষণ যে আরও কয়েক গুণ বাড়বে, তা বলাই যায়।
উটির বোটানিক্যাল গার্ডেনে ৪ লক্ষ ফুলগাছ বসছে
পর্যটন মরশুমে ফুলের চাদরে ঢাকবে


