উপনির্বাচনে বিজেপির জয় সুনিশ্চিত
বিরোধীরা ছয়ে ছত্রাখান


৩৬৫ দিন।
সৌগত মণ্ডল।  নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই শাসক দল বিজেপির। চিন্তা যেটুকু আছে তা হল জয়ের মার্জিন এক লক্ষের বেশি রাখা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে। কারণ বিজেপি বিরোধী ভোটের ভাগীদার হওয়ার তাগিদে ইতিমধ্যেই আসরে নেমে পড়েছে ৬ বিরোধী দলের প্রার্থী। তাই বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে এখন আর বিরোধী প্রার্থী কে রয়েছে অথবা তিনি কোন দলের প্রার্থী তা দেখার প্রয়োজন নেই।
ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-দুটি কেন্দ্রেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু। ফলে ওই কেন্দ্র নতুন করে নির্বাচন। অন্যদিকে, মু্র্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা- জোড়া কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত অর্থাৎ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। স্বাভাবিকভাবেই বিধায়ক শূন্য ওই দুই আসন।
বিজেপি বিরোধী ভোট কাটতে আসরে ৬ বিরোধী
বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরে সবার শেষে প্রার্থী ঘোষণা করলেও জয় নিয়ে বিজেপির নিশ্চিত থাকার সবথেকে বড় কারণ হলো, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী মহাজোট বা ইন্ডিয়া জোট নাম দিয়ে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করা শরিক দল গুলোই এখন বিজেপি বিরোধী ভোট কাটাকাটির জন্য কে কার আগে প্রার্থী দিতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিক তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম ও সিপিআই সকলেই এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে দেওয়ায় তাই ভোট ভাগাভাগি হলেও জয়ের মার্জিন যে আকাশ ছোঁয়া হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের।
প্রসঙ্গত বাংলায় সিপিএমকে হারানোর জন্য ২০০১ সালে প্রথম সিপিএম বিরোধী ভোট যাতে ভাগাভাগি না হয় তার জন্য তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতার উদ্যোগে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয়েছিল মহাজোট। সেই নির্বাচনে সাফল্য না আসলেও ২০১১ সালে আরো একবার সিপিএম বিরোধী ভোট এককাট্টা করার জন্য কংগ্রেস এবং একাধিক বামপন্থী দলকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট করে সিপিএমকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন মমতা। সিপিএম সেই সময় বিরোধী ঐক্য ভাঙতে না পারলেও পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার যে বিরোধী ঐক্যে ভাঙ্গন ধরাতে সফল হয়েছে তা প্রমাণ করে দিল এবারের উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ৬ বিরোধী দলের প্রার্থী ঘোষণা করায়।
জোট ধর্ম ভেঙে একক প্রার্থী বামফ্রন্টের
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরে সবার প্রথমে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল সিপিএম। আইএসএফ অথবা কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কোন সম্ভাবনা না রেখে নিজেদের শক্তিতে জেতার হুঁশিয়ারি দিয়ে এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় সিপিএম এবং সিপিআই। নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের টিকিটে লড়বেন শান্তিগোপাল গিরি। হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসনে লড়বেন সিপিএম প্রার্থী সইদ আসাদ আলি। রেজিনগরে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপি-ও।
ছত্রভঙ্গ তৃণমূল
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াই করে ৮০ আসনের বিজয়ী হলেও এখন ছত্রভঙ্গ অবস্থায় রয়েছে। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন জনা ২০ বিধায়ক, অন্যদিকে তৃণমূল বি টিমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৬০ জন। অদ্ভুতভাবে দুই তরফেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগর কেন্দ্রে মমতার প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ঋতব্রত শিবির নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী করেছে মহম্মদ এহেতাশ মুল হককে। রেজিনগরে তাদের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান।
দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। গত শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে দলের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন মিলন প্রধান। রেজিনগর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে। তিনি বেলডাঙা এলাকা থেকে জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতার দায়িত্বেও রয়েছেন।
প্রার্থী দিয়েছেন হুমায়ুন
ইতিমধ্যেই নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে নিজের পুত্র গোলাম নবি আজাদকে (রবিন) প্রার্থী করেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর।
নন্দীগ্রামে লড়ছে ভাইজানের আইএসএফ
বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে বামফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে লড়াই করলেও এবারের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সময় ভাইজান নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফের সঙ্গে কোন আলোচনা করেনি আলিমুদ্দিন স্ট্রীট। ‌ তাই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রার্থী না দিলেও নন্দীগ্রামে নিজেদের পৃথক প্রার্থী দেওয়ার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন নওশাদ সিদ্দিকী। নওশাদের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে আমরা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও লড়াই করেছিলাম, তাই এবারের উপনির্বাচনেও আমরা সেখানে আমাদের দলের প্রার্থী দেব।

Scroll to Top