শরৎচন্দ্রের পথের দাবী হিন্দিতে জমিয়ে করছে বলিউড

৩৬৫ দিন। সদাশিব রানা।মুম্বই। কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সার্ধশতবর্ষে পা দিচ্ছেন ১৫ ই আগস্ট। বাংলা সাহিত্যের কথা বাদ রাখলে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হলেন সেই বিরল সাহিত্যিকদের একজন যার সাহিত্য থেকে সব থেকে বেশি চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। বাংলা তো আছেই, হিন্দি, তামিল, তেলেগু মালায়ালাম, কন্নড় এমনকি গুজরাতি ওড়িয়া ভাষাতেও শরৎচন্দ্রের সাহিত্য চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। তথ্য ঘাটলে দেখা যায় হিন্দি বাংলা সহ বিভিন্ন ভাষায় কেবল দেবদাস ছবি হয়েছে অন্তত ১৪টি। হিন্দি বা বাংলার দেবদাসরা তো কালজয়ী হয়েছেই। উত্তমকুমার থেকে দিলীপকুমার হয়ে সঞ্জয় লীলা বনশালি হাত ধরে শাহরুখ পর্যন্ত। রোমান্স বিরহ বৈরাগ্য কিংবা নারীর সামাজিক অবস্থান এবং জটিল সম্পর্কের বাইরেও শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেম। তার তার একসময় নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া পথের দাবী যার উৎকৃষ্টতম উদাহরণ। ১৯৭৭ সালে পরিচালক পীযূষ বসু যে সাহিত্য অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন সভ্যসাচী সিনেমাটি। উত্তমকুমার,তরুণ কুমার, অনিল চট্টোপাধ্যায়,সুপ্রিয়া দেবী,সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত সে ছবি কেবল কালজয়ী নয়, ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবের এক জ্বলন্ত দলিল। শরৎচন্দ্রের সার্ধশতবর্ষে এবার সেই ছবি হিন্দিতে রিমেক হতে চলেছে। সূত্রের খবর, গত বছর মার্চ মাসেই এই উপন্যাস অবলম্বনে তিনটি গল্প জমা পড়ে। যার মধ্যে একটি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি। ছবির নাম হিসেবে রেজিস্টার করা হয়েছিল, সব্যসাচী। অন্যদিকে এই মুহূর্তে দক্ষিণের সবচেয়ে সফল পরিচালক অ্যাটলি একই উপন্যাস অবলম্বনে তার গল্প রেজিস্টার করিয়েছেন, দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ বেঙ্গল রিভলিউশন। অন্যদিকে তৃতীয় গল্পটিও জমা হয়েছে দ্য ফ্রিডম নামে। তিনটি ছবিই কিন্তু শরৎচন্দ্রের পথের দাবির অবলম্বনে। বিশিষ্ট সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে, সঞ্জয় তার ছবির জন্য ইতিমধ্যেই অনিল কাপুরের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়েছেন। অন্যদিকে ভিকি কৌশলকে সব্যসাচী চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেছেন অ্যাটলি। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই তিনটি ছবি হতে চলেছে মেঘা বাজেটের ম্যাগনাম ওপাস। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত যেভাবে সর্বভারতীয় হিন্দি ছবিতে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার সংগ্রামের চরিত্রদের পোর্ট্রে করার দুর্দান্ত একটা প্রচেষ্টার নবতম সংযোজন শরৎচন্দ্রের সব্যসাচী।
তীব্র জাতীয়তাবাদী
পথের দাবী নিষিদ্ধ হল
শুধুমাত্র বঙ্কিমচন্দ্র একা নন, রবীন্দ্রনাথ থেকে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে যেভাবে জাতীয়তাবোধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা ভারতবর্ষের অন্য কোন ভাষার সাহিত্যে হয়নি। শরৎচন্দ্রের পথের দাবি উপন্যাসটি ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এর আগে বঙ্গবাণী পত্রিকায় এটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।ছাপা হয়েছিল কটন প্রেস থেকে। মুদ্রাকর, সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। দাম তিন টাকা। সাদা কাগজে মোড়া পিচবোর্ডের মলাট। বইয়ের উপর দিকে লাল হরফে ছাপা নাম, পথের দাবী। নীচের দিকে লেখকের নাম, শ্রী শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়। রূপসজ্জার দিক থেকে একেবারেই সাদামাটা এই বই-ই ব্রিটিশ সরকারের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল বইটি পাঠকদের মধ্যে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অসন্তোষ তৈরি করছে। তাই ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি সরকারি আদেশে এটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ দেখা দেয়। আইনসভায় সুভাষচন্দ্র বসুসহ অন্যান্য নেতারা এর তীব্র যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।প্রথম সংস্করণে মোট তিন হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল। বই হয়ে বেরনোর সঙ্গে-সঙ্গেই সব কপি বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম দিকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ছিল বইয়ের লেখক, মুদ্রক ও প্রকাশক— সকলকেই শাস্তি দেওয়া। আইনি লড়াই শুরু করেন চিত্তরঞ্জন দাস,রাসবিহারী বসু ,সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির মত বাঘা ব্যারিস্টাররা। শেষে আইনি যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় বারো বছর পর ১৯৩৯ সালের ১০ মে এই উপন্যাসের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
অতীতে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম,বিপ্লবী ছিল বিশ্বাসযোগ্য দলিল
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট নিয়ে বায়োপিক বা বড় মাপের সিনেমার ক্ষেত্রে হিন্দি ছবির পরিচালকরা কয়েকশো যোজন এগিয়ে আছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই মুহূর্তে তার বিন্দুমাত্র ধারে কাছে নেই বাংলা ছবি। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় অজয় দেবগন অভিনীত ভগৎ সিং কিংবা সুজিত সরকার পরিচালিত ভিকি কৌশল অভিনীত সর্দার উধম সিং ছবি দুটো যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল এই মুহূর্তের বাংলা ছবি তার ১০০ মাইলের মধ্যে নেই। সেই পরিচালকও নেই সেই উঁচু দরের অভিনেতারাও বিরল। তবে এক সময় ছিল তখন বাংলা ছবি র ডাকসাইটে পরিচালকরা শ্রেষ্ঠতম ছবি নির্মাণ করতেন।। তারপর তাদের থেকে কপি করতে হিন্দি ছবির পরিচালকরা।
হেমেন গুপ্তর বিখ্যাত ৪২ ছবিতে বিকাশ রায় অভিনয় যাদের মনে আছে তারা যুক্তিটা বুঝতে পারবেন। বিপ্লবী কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামী মানে তাকে লার্জার দেন লাইফ বানিয়ে দেওয়ার প্রবণতাটা সাধারণ মানের পরিচালকদের একটা টেন্ডেন্সি। রিচার্ড অ্যাটেনব্রো পরিচালিত গান্ধী তাই একটি পরিপূর্ণ বায়োপিক হয়ে উঠতে পেরেছে। সেখানে গান্ধী লার্জার দেন লাইফ নন, রক্ত মাংসের মানুষ। তিনি ভুল করছেন, অনুতাপ করছেন, তার অনুশোচনা হচ্ছে, তিনি কাঁদছেন, তিনি হতাশ ,যন্ত্রণায় জর্জরিত, তবুও নিজ গুনে তিনি সাধারণত থেকে অনেক এগিয়ে।  আবার পীযূষ বোস বসুর নাম করতে হলো। সুভাষচন্দ্র ছবিটি তিনি নির্মাণ করেছিলেন। শৈশব থেকে তার অন্তর্ধান পর্যন্ত ব্যাক্তি ছিল এই ছবির চিত্রনাট্যের। কোথাও এতোটুকু বাড়াবাড়ি নেই, তিনি চাইলেই সুভাষকে ঘোরায় চড়াতে পারতেন, মিলিটারি ড্রেস পরিয়ে কোমরে হল ষ্টার এ রিভলবার ঝুলিয়ে কদম কদম বাড়ায়ে যা.. অবধি টেনে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি জানেন প্রতিটা মহান চরিত্রেরই একটা সীমাবদ্ধতা আছে। চলচ্চিত্রেরও। তার চিত্রনাট্যের নিপুণতা কখনোই ইতিহাস বিচ্যুত হয়নি, তথ্য বিকৃত হয়নি, একখণ্ড ইতিহাস যেন সামনে চলমান। এই ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া একবার বিদায় দে মা গানটার কথা ছেড়েই দিলাম। ছবিটি জাতীয় পুরস্কার পেয়ছিল। ৬০ ৬৫ বছর পার করেও আজও সমকালীন। এই প্রত্যেক পরিচালকই ছবিকে বেধেছেন লো টিউনে। কোথাও হাইপার হওয়ার জায়গা নেই।১৯৮০ সালে মাস্টারদা ও তাঁর সহযোদ্ধাদের আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়৷ চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন নির্মল চৌধুরী৷ ছোট্ট ছবি, একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ব্যবসায়িক সাফল্য পাইনি কিন্তু কোথাও তথ্য ভুল নেই।

উত্তম কুমার অভিনীত ‘সব্যসাচী’

বাংলা ছবিতে বিপ্লবী মানেই এক ঘুষিসে পাঁচ কুপোকাত
এই মুহূর্তে বাংলা ছবির পরিচালকদের কাছে বিখ্যাত বাঙ্গালীদের জীবনী অবলম্বনে সিনেমা বানানোর একটা ট্রেন্ড এসেছে। এটা যে কারণেই হোক। একবছর আগেই দেব অভিনীত বাঘাযতীন ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। সেন্ট্রাল ল কাপের মধ্যে ২৫ ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে তার লড়াইয়ের দৃশ্য চিরঞ্জীবীর একটা ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়। চাপড় মারলেই পুলিশের বডি মাটিতে ড্রপ খেয়ে টেনিস বলের মতো উঠে আসছে। এসব কি? বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রাম বিদ্রোহ এভাবে  পোট্রে হয়?
ভারতীয় বিপ্লবের ইতিহাসে অনন্য ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব অনন্ত সিং। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক, আবার পরবর্তীতে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘ম্যান-মানি-গান’  গ্রুপের মাধ্যমে কলকাতার ব্যাঙ্ক ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড। তাঁর আত্মজীবনী ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ বইটিকে অবলম্বন করে বছর কয়েক আগে বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া অনন্ত সিংয়ের জীবন নিয়ে হিন্দি ছবি বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এমনটাই জানতাম। ছবির শিরোনাম রাখা হয়েছিল ‘ম্যান মানি গান’ (যা অনন্ত সিংয়ের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র দলের নামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত)। দুর্ভাগ্য এই ছবির নাম ভূমিকায় অর্থাৎ অনন্ত সিং এর চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল তিগমাংসুর প্রিয় অভিনেতা ইরফান খানের।। ইরফানের মৃত্যুর পর পরিচালক দ্বিতীয়বার এই ছবি করার কথা ভাবেননি এটুকু জানি ঠিক যেভাবে তিগমাংশু তার পান সিং তোমার ছবির জন্য গবেষণা করেছিলেন এই ছবির জন্য তিনি একই পদ্ধতি অনুসরণ করে এক ক্লাসিক্যাল ঘরানার বায়োপিক বানাতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য সেটি হলো না।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বায়োপিক করার ক্ষেত্রে পরিচালকদের অতিসতর্ক থাকাটা প্রয়োজন। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামী মানেই ধরাছোঁয়ার বাইরে একটা আদর্শ মানুষ। ফলে সামান্য বিচ্যুতি হলে সেটাও গ্রহণ করা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। বাংলা ছবির পরিচালকরা সেই লজিক এড়িয়ে যান। ধুমকেতু ছবিটা কৌশিক গান গঙ্গোপাধ্যায় বানিয়েছেন ঠিক কথা কিন্তু, বিপ্লব ও বিপ্লবী প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেব বা জিৎরা সুপারহিরো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন না। কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া জিৎ অভিনীত কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত তার ও একই পরিণতি হয়েছে। তবে এর মধ্যে অবশ্যই ব্যতিক্রম অনেকে চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত কবির ছবিটি। কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। পুরোপুরি বিদ্রোহী এক বিপ্লবী জঙ্গির জীবন ও তার টানাপোড়েন। ছবির শেষে দুর্দান্ত টুইস্ট। সবমিলিয়ে বিশ্বাসযোগ্য চিত্রনাট্য।
কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত ছবির পরিচালক অনন্ত সিংয়ের নিজের লেখা অনুসরণ করেছে, তাই হুবহু টেক্সট ছবির গল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ঢুকে গিয়েছে, দক্ষিণী ছবির মসলা। অনন্ত সিং মানে স্ক্রিন জুড়ে কেবল একশন, চলন্ত গাড়ির উপরে মারামারি, বাইকে করে ধাওয়া, কিংবা বোমা বিস্ফোরণ নয়। অনন্ত সিংহ তার থেকে অনেক আলাদা। সেই সময় সশস্ত্র বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি স্বাধীনতা সংগ্রামীর গোলা, বারুদ ,অ্যাকশন রিভলভার ইত্যাদির বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এটাতো একটা বিপ্লবীর বহিরঙ্গ। এটা অনন্ত সিংএর কর্মধারা, এটা করতেই হতো। মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে বিনয় বাদল দীনেশ প্রত্যেককে করতে হয়েছে। কারুর ফাঁসি হয়েছে তো কারুর দ্বীপান্তর ,কাউকে পিছিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। অ্যাকশনটা এখানে তাদের কর্মযোগের মত। আসল বিষয়টা হল অনন্তর ইডিওলজি বা আদর্শ কিংবা দর্শন। ছবিতে সেটা কোথায়?
ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম এই অনন্ত সিং। সাহসী ,বৈপ্লবিক, রোমান্টিক এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৩৩৫ ব্রাউনিং এর পিস্তল হাতে লড়াই করেছেন ব্রিটিশ ফৌজের সঙ্গে, তিনি প্রীতিলতা , মাস্টারদা সূর্য সেনের সঙ্গে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেছেন, কলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেল ডায়নামাইট দিয়ে উড়িয়ে সহ বিপ্লবীদের সেখান থেকে পলায়নের ব্যবস্থা করেছেন, হতাশ কপর্দকহীন অবস্থায় বই ফেরি থেকে গাড়ির ব্যবসা এমনকি চলচ্চিত্র প্রযোজনা পর্যন্ত করেছেন। পরবর্তীকালে জেলে থাকার সময় ভীষণভাবে মার্কসবাদী আদর্শে প্রভাবিত হন, খাদ্য আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে আদর্শচ্যুত বামপন্থীদের দেখে তার মোহভঙ্গ হয়। এমন রঙিন বৈচিত্র্যময় চরিত্র কে চলচ্চিত্রে ধরতে গেলে কেবল একটিমাত্র বইয়ের রেফারেন্সে রূপলি পর্দায় তার চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব শুধু নয় অর্বাচীনের মত কাজ। প্রথমত অনন্ত সিংকে লার্জার দ্যান লাইফ না করে রক্তমাংসের একজন আদর্শবাদী বিপ্লবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কাজটাই ছিল আসল। সেটা কিন্তু ছবিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ত্রৈলোক্য চক্রবর্তী ৩০ বছর জেলে এমন কিছু রেফারেন্স বই গবেষণায় যুক্ত করা উচিত ছিল। কেন প্রায় বৃদ্ধ অনন্ত সিং এখনকার দক্ষিণের ছবি নায়কদের মত উড়ে উড়ে ফাইট করবেন? রিয়েল আনরিয়েলের মাঝে একটা সূক্ষ্ম ব্যবধান রেখা আছে সেটাকে পরিচালক কেন ভাঙবেন? একজন বিপ্লবী আদর্শবাদ দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দক্ষিণী ছবির চাইলে টকটকে লাল ছাতা মাথায় শেয়ারে বসিয়ে মুখে চুরুট ধরিয়ে দিলে হবে না। হ্যাঁ ছবিতে পরিচালক ১০-১২ টা ছদ্মবেশ দেখিয়েছেন অনন্ত সিং এর। দেখানোর চেষ্টা করেছেন বা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন কত রকম ভাবে এই বিপ্লবী ছদ্মবেশে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন। পীযুষ বসুর সব্যসাচী ছবিতেও আমরা উত্তম কুমারকে একাধিক ছদ্মবেশে দেখেছি। এটা নতুন কিছু নয়। নিজেদের আত্মগোপনের জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করতেন এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। আসলে, এই ছবিতে পরিচালক ব্যস্ত তাকে দিয়ে সুপারম্যানের মতো লড়াই করাতে। এই এনফিল্ড বাইকে করে ধাওয়া করছে তো এই জ্বলন্ত ট্রেনে একশন!  তাহলে রজনীকান্তের কালা ছবির সঙ্গে পার্থক্য কি রইল? তাহলে তার সঙ্গে রজনীকান্তের সিনেমার কি পার্থক্য?

 

Scroll to Top