ব্রিকস সম্মেলনে সর্বসম্মতি ঘোষণা পত্র গৃহীত
কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধার্ববসানের আপিল 

৩৬৫ দিন। গৌতম লাহিড়ী। নয়াদিল্লী। চার ঘণ্টা ম্যারাথন শিখর বৈঠকের শেষে ব্রিকস মোর্চা সর্বসম্মতিক্রমে “ নয়াদিল্লী ঘোষণা “ গৃহীত হলো। এই ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সংকটের জন্য কোনো রাষ্ট্রের নাম না করে কূটনীতি মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানে আর্জি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণাপত্রে ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্র এবং অংশীদার রাষ্ট্রোরা ভারত কে প্রশংসা করেছে আউটরীচ রাষ্ট্র গুলিকে এই শিখর সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। রবিবার যাব্রিকস রাষ্ট্রের সকল এবং উপস্থিত আউটরীচ বহুরাষ্ট্রিয় সংস্থার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বিমসটেক সভাপতি এই সম্মেলনে অনুপস্থিত। বিমসটেক সভাপতি বর্তমানে বাংলাদেশ। ঘোষণাপত্রে বয়ান নিয়ে কোনো দেশ কোনো আপত্তি তোলেন নি। ঘোষণায় বলা হয়েছে , সমুদ্র পথে নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য এক যৌথ মোর্চা গঠন করা। হরমুজ প্রণালীর মত সঅঙ্কটে যাতে বিপদগ্রস্ত নাবিকদের সাহায্য করা যায়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশসহ ,বিশেষ করে এশিয়া,আফ্রিকা লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোকে বিশ্বের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা পালন করতে দেওয়ার জন্য আগ্রহ। স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ সহ নেপাল ভুটান রয়েছে। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে নিন্দা ও কাশ্মীরে পোহেলগাঁওতে জঙ্গিদের হাতে নিরীহ ভারতীয়দের নিহত হওয়ার ন্যায্য বিচার চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রারম্ভিক ভাষণে এই প্রস্তাব দেন। চীন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব দেন। ঘোষণাপত্রে গাজা তে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা হয়েছে। চার অনুচ্ছেদ এই বিষয়ে লেখা হয়েছে। ভারতীয় ভারত মণ্ডপ মিলনায়তনে দুদিন ব্যাপী শিখর সম্মেলনে আয়োজন হয়েছে। এই নিয়ে চারবার পৌরহিত্য করছে ভারত। ইউপি এ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর গোড়াপত্তন করেন।এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌরহিত্য করলেন। ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে চীন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন , উপস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সংযুক্ত আমির সাহির এবং ইরানের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও এই সম্মেলনে সহমত। এই ঘোষণাকে কূটনৈতিক সাফল্য বলে দাবি করলেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ব্রিকস এর১১ সদস্য ছাড়া ১০ টি পর্যবেক্ষক দেশ। নতুন সদস্যদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বহু রাষ্ট্রীয় আঞ্চলিক মঞ্চর মধ্যে গালফ পরিষদ, আফ্রিকা ইউনিয়ন , আসিয়ান প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও ঘোষণা পত্র লেখ হয়েছে। আগামী বছর ব্রিকসের পৌরহিত্য করবে চীন। ব্রিকস রাষ্ট্র গুলি জাতিসংঘে সংস্কার দাবি করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে গ্লোবাল সাউথে প্রতিনিধি করার জোরালো দাবি পেশ করা হয়েছে।

Scroll to Top