৩৬৫ দিন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একই সময়ে তিনটি ঘটনা সামনে এসেছে; নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের না-যাওয়া, শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদত্যাগ এবং গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর-দাবি বহাল রাখার হাইকোর্টের রায়। তিনটি ঘটনা আলাদা হলেও এর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ভারত-সম্পর্ক এবং ক্ষমতার পুরনো বলয়ের পুনর্বিন্যাস;তিনটিই স্পষ্ট।
১. ব্রিকসে তারেক নেই হাসিনাই কি আসল অস্বস্তির জায়গা?
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জানিয়ে দিয়েছে, তারেক রহমান দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যাচ্ছেন না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন জরুরি;ঢাকার সরকারি ব্যাখ্যায় কারণটি সরাসরি শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমন্ত্রণটি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাই ঢাকা মনে করছে, এই আমন্ত্রণের কাঠামো গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের বক্তব্যও একই;ব্রিকসের বহির্বিস্তৃত অধিবেশনে আঞ্চলিক সংগঠনের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো একটি প্রচলিত রীতি। একই সঙ্গে তারেকের জন্য পৃথক দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণও বহাল রয়েছে। তবু এর রাজনৈতিক পটভূমিতে শেখ হাসিনাকে বাদ দেওয়া যায় না। হাসিনা এখনও ভারতে অবস্থান করছেন এবং ঢাকার নতুন সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে। বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনারও বলেছেন, সম্পর্ক এগোতে হলে মর্যাদা, পারস্পরিক আস্থা এবং হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে।
২. সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ হাসিনা পরিবারের জন্য নতুন চাপ
শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক অনিয়ম, নথি জালিয়াতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং চিন সফরের খরচ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছিল। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি কমিটি তাঁর অপসারণের সুপারিশ করার পরই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন বেতনহীন প্রশাসনিক ছুটিতে থাকার কথাও সায়মা তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি সংস্থার নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়েছেন। ৩. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ ৬৬৬ কোটি টাকার রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ? এবার তৃতীয় বিস্ফোরক ঘটনা। বাংলাদেশের হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার কর-দাবি বহাল রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি নোবেলজয়ী এবং বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত। করের দাবিটি ২০১২ থেকে ২০১৭ অর্থবর্ষের। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়;আদালত ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে ৬৬৬ কোটি টাকা দেবেন, এমন রায় দেয়নি। কর-দায়টি গ্রামীণ কল্যাণ নামের প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানটি এই কর-দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল; হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে রাজস্ব বোর্ডের দাবিকে বহাল রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। হঠাৎ এই সময়ে বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কেন? কারণ ইউনূস বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর নিছক অর্থনীতিবিদ নন। তিনি অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন এবং তাঁর প্রশাসনের সময় শেখ হাসিনা-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থার বড় পরিবর্তনগুলি শুরু হয়েছিল। এখন নির্বাচিত তারেক সরকার ক্ষমতায়। সেই অবস্থায় ইউনূস-সম্পর্কিত একটি বড় আর্থিক মামলায় আদালতের রায় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবেই।
ব্রিকস’এ তারেক এলেন না, ইউনূসের ওপর করের চাপ




