ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে
পুতিনকে মোদির বার্তা
আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত কমান

৩৬৫ দিন। দু’সপ্তাহের মধ্যে দু’বার বৈঠক! প্রথমটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে। দ্বিতীয়টি দিল্লিতে। ব্রিক্স সম্মেলনের আগে শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখোমুখি বসলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাণিজ্য, জ্বালানির মতো বিষয়গুলির পাশাপাশি বৈঠকে উঠে আসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংঘাতের কথাও। এ বিষয়ে মোদী ফের স্পষ্ট করে দেন দিল্লির অবস্থান।আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের উপরে জোর দেন তিনি।পুতিনকে জানান, এ ক্ষেত্রে ভারতও সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। শুক্রবারের সাক্ষাতে তামিল দার্শনিক তিরুভল্লুভারের লেখা নীতিশাস্ত্রের গ্রন্থ ‘তিরুকুড়াল’-এর ইংরেজি অনুবাদ পুতিনকে উপহার দেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীকে রাশিয়া সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান পুতিনও। পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, অর্থনীতি, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।আলোচনায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কথাও উঠে আসে।বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের বিষয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার। এই সংঘর্ষগুলি যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও কথাবার্তা হয় মোদী-পুতিনের। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনও উদ্যোগে সাহায্য করার জন্য ভারত সব সময় তৈরি আছে।আলোচনা এবং কূটনৈতিক পথেই সংঘাত থামানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। সে কথাও জানিয়েছেন পুতিনকে। এ দিনের বৈঠক শেষে ফের শুক্রবার ফের এক বার একসঙ্গে একই গাড়িতে ওঠেন মোদী-পুতিন। ফের একবার প্রধানমন্ত্রীর ‘গাড়ি কূটনীতি’র ঝলক দেখা গেল দিল্লিতে। গত ৩১ অগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে গিয়ে পুতিনের লিমুজিনে সওয়ার হয়েছিলেন মোদী। শুক্রবারের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার। গত মার্চ মাসে ভারতকে ‘এসইউ-৫৭ই’ (এসইউ-৫৭-র এক্সপোর্ট ভ্যারিয়েন্ট) যুদ্ধবিমানের ‘যৌথ উৎপাদন’ এবং ‘সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরে’র প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে মোদী-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য এবং তাদের কাছ থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারতের উপরে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে দিক থেকেও মোদী-পুতিন বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

Scroll to Top