ইস্টবেঙ্গল – ০
ইউনাইটেড স্পোর্টস – ০
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ফুটবলে আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। এই আপ্তবাক্যটা সবসময় প্রযোজ্য। চরম অনিশ্চয়তার খেলায় কখন কি হবে বলা যায় না। ফোকাস ধরে রাখা এবং প্রতিটা ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করা আসল চ্যালেঞ্জ। গা ভাসালেই ফল ভুগতে হবে। যেমন শুক্রবার বিকেলে নিজেদের ঘরের মাঠে ভুগতে হল ইস্টবেঙ্গল রিজার্ভ দলকে। সহজ করে বললে ডার্বির সাফল্যের সৌরভ ফিকে হয়ে গেল সুপার সিক্সের ম্যাচে। এবারের কলকাতা নিয়ে আজ সবচেয়ে জঘন্য পারফরমেন্স দেখাল ইস্টবেঙ্গল। চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ইউনাইটেড এসসি’র বিরুদ্ধে গোলশূন্য ভাবে ড্র হল ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ। ফলে কলকাতা লিগে বড়সড় ধাক্কা লাল-হলুদ বাহিনীর জন্য। গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যুক্ত হবে না। অন্যদিকে মোহনবাগান আগের ম্যাচেই ৫-১ গোলে জিতেছে।
এদিন ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জিতল মহামেডান। ফলে ঘরের মাঠে ম্যাচ ড্র করে সব দিকে থেকেই চাপে পড়ল অর্চিষ্মান বিশ্বাসের ছেলেরা।গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মোহনবাগানের ‘সিনিয়র’ দলের বিরুদ্ধে ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গলের বাঙালি ব্রিগেড। সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল লালকমল ভৌমিকের দল ইউনাইটেড এসসি। লড়াই সহজ হবে না, জানা কথাই ছিল। তার উপর চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি, বিক্রম প্রধানরা দলে ছিলেন না। ডিফেন্সে অঙ্কন ভট্টাচার্য, মনোতোষ চাকলাদাররা কোনও ভুল করেননি। গোলকিপার গৌরব সাউও অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। কিন্তু মাঝমাঠে-আক্রমণে চাকু, বিজয় মুর্মুদের অভাব ভালো করেই টের পাওয়া গেল।ডার্বিতে গোল করে নায়ক হয়েছিলেন বিলাল। তার পুরস্কার হিসেবে এদিন শুরু থেকেই দলে ছিলেন। কিন্তু শুধু গতিতে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায় না। সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। অনন্থু, আকাশ হেমরামরা নিষ্প্রভ। বৃষ্টিতে মাঠ এমনিতেই ভারী হয়ে ছিল। তার উপর ইউনাইটেড গোলকিপার সৌরভ সামন্ত অসামান্য সেভ করেন। ৪০ মিনিটে বিলালের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান সৌরভ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগল ইস্টবেঙ্গল। শেষের দিকে কিছু ছন্নছাড়া ক্রস ভেসে আসে ইউনাইটেডের বক্সে। সেগুলো আটকাতে খুব একটা সমস্যায় পড়েননি সৌরভ। ম্যাচের পর লাল-হলুদ কোচ স্বীকার করে নেন, “ডার্বির পর দলের মধ্যে আত্মতুষ্টি ঢুকে গিয়েছিল। তবে এখনও দু’টো ম্যাচ আছে। আমরা হাল ছাড়ছি না।” কাস্টমস দল থেকে নতুন নেওয়া ফুটবলার বাতাস মুর্মুকে পরে এনে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি। আজ ইউনাইটেড ফুটবলারা এক হার না মানা মানসিকতা নিয়ে লড়াই করল।
অন্যদিকে নৈহাটিতে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জিতল মহামেডান। গোল করেছেন ফারদিন আলি মোল্লা ও ইসরাফিল দেওয়ান। সুপার সিক্সে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মোহনবাগান। সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে গোলপার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে মহামেডান। মোহনবাগানের পরবর্তী খেলা ১৪ তারিখ সোমবার ইউনাইটেডর বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচটা জয়ের জন্য অলআউট চেষ্টা করবে মোহনবাগান। তার কারণ শেষ ম্যাচে তারা মোহামেডান দলের বিরুদ্ধে হয়তো কয়েকজন সিনিয়রকে নাও পেতে পারে জাতীয় দলের যোগ দেওয়ার কারণে। তবে যেহেতু দুটো ম্যাচ সরাসরি জিতলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকছে বাগানের সামনে তারা ফেডারেশনকে অনুরোধ করতে পারে শেষ ম্যাচের পরেই জাতীয় দলের ফুটবলারদের রিলিজ করার ব্যাপারে। ২০১৮ সালের পর আর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়নি বাগান। তারা শেষ কয়েক বছর এটাকে গুরুত্বই দিত না। কিন্তু এবছর ডুরান্ডে হার, আগের বছর আই এসএল হাতছাড়া তাদের বাধ্য করেছে কলকাতা লিগকে গুরুত্ব দিতে। তবে ইউনাইটেড দলের থাপা, আমন, প্রশান্ত, অমরেন্দ্র, শ্রীনাথরা আজ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে মোহনবাগানকেও তারা সহজে ছেড়ে দেবে না। তবে আজকের ড্র হওয়াটা লাল হলুদ ব্রিগেডকে কিছুটা ধাক্কা দিল বলাই যায়। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ইস্টবেঙ্গল দলের কোচ লোপেজ হাবাস। গোল হচ্ছে না দেখে তাকেও কথা বলতে দেখা যায় পাশে বসা সহকারীর সঙ্গে। লিগ এবছর জমে গেছে বলাই যায়।





