৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ২২ বছরের একটা খরা কাটিয়ে লাল হলুদ সমর্থকদের ভারত সেরা হওয়ার মুহূর্ত উপহার দিয়েছিলেন তিনি। যে কাজ কেউ করে দেখাতে পারেননি তার আগে, সেটাই করেছিলেন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস দল থেকে আসা ম্যানেজার অস্কার ব্রুজো। তার আগে আলেজান্দ্র, কার্লস চেষ্টা করেও পারেননি। তাই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তার নাম। কিন্তু সেই কোচ যে কান্ড ঘটিয়েছেন, তাতে সমালোচনা শুরু হয়েছে ময়দানে। ব্যাপারটা কি? এমন অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে অনেকের পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। তবে ব্যাপারটা নেহাতই অভিযোগ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোন গোপন ষড়যন্ত্র- অন্তর্ঘাত নাকি বাইরে ইস্টবেঙ্গলের কোন শত্রুর এমন কোনও গোপন লাভের অংক? এক্স হ্যান্ডলে ইস্টবেঙ্গলের পোস্টের দীর্ঘ কমেন্টের একটি অংশে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচের আগে ‘মাস্টার’ কয়েকজন সদস্যকে বলেন, রেফারি আমাদের পক্ষে আছে। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। যাঁরা ম্যাচটা দেখেছেন, তাঁরা জানেন রেফারি নিরপেক্ষভাবে ম্যাচ খেলিয়েছেন।
ভিতরে ভুল তথ্য প্রচারের জন্য এই কাজটা করেছিলেন।’ কে এই ‘মাস্টার’? অস্কার কারও নাম নেননি। তবে অনেকে মনে করছেন, ‘মাস্টার’ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোনও শীর্ষস্থানীয় কর্তা হতে পারেন।গত মরশুমের শুরুতে গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীকে আচমকা বাদ দেন অস্কার। তখন তাঁর অভিযোগ ছিল, দলের ভিতরের খবর ফাঁস হচ্ছে। এবারও সেই কথাই বলেছিলেন তিনি। অন্য একটি কমেন্টে বলেছেন, ‘মোহনবাগান পাশের মাঠে অনুশীলন করলেও তাদের এরকম প্রচারের শিকার হতে হয়নি। কিন্তু আমাদের সব কৌশল বারবার ফাঁস হয়ে যাচ্ছিল।’ তাঁর আরও বক্তব্য, আগের ইনভেস্টর ইমামি গ্রুপ বুঝতে পেরেছিল, প্লেয়ার কেনাবেচায় প্রচুর টাকা অপচয় হত। তারা পেশাদারিত্ব দেখাতেই ‘মাস্টার’-এর লবি ও নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়ে। তিনি আরও লেখেন, সাফল্য পাওয়া ‘মাস্টার’-এর উদ্দেশ্যই ছিল না। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন এই কোচের অভিযোগের কথা জানতে পারার পর এদিন ইস্টবেঙ্গল শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, অস্কার আমাদের ক্লাবের নয়নের মনি। আমাদের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ দিয়েছে। সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সমর্থকরা সেটাই মনে রাখবে। তাছাড়া উনি এখন আমাদের কোচ নন। তাই আমাদের ক্লাবে এই মুহূর্তে উনি কি বললেন তার গুরুত্ব নেই। তবে ওর অবদানকে কখনও অস্বীকার করা যাবে না। আমি বলছি অস্কার জিন্দাবাদ। সূত্রপাত সোশাল মিডিয়ায় একটি ইস্টবেঙ্গল ফ্যান পেজকে নিয়ে। আচমকাই তারা অস্কারের সমালোচনা শুরু করে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন অস্কার। কমেন্টে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে তীব্র অভিযোগ জানান।
পরে যোগাযোগ করা হলে অস্কার ব্রুজো জানান, তাঁর কাছে প্রমাণ আছে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মধ্য থেকেই কেউ এই টুইটার পেজটির পিছনে আছেন। এখন দেখার এই জল কতদূর গড়ায়। এদিকে একদিন আগেই অস্কারের দুই সহকারি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে দু মাসের বেতন না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন ফিফাতে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টাকা দিতে না পারলে নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফার ব্যান হতে পারে লাল হলুদে।
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ অস্কারের!
পাল্টা দিলেন লাল হলুদের কর্তা





