পুরসভার অভিযোগ, খাবারে গোলমাল

খাবারের মান নিয়ে আপস করিনি
নিজেদের ফুড টেস্টিং ল্যাব বানাব
৩৬৫ দিন।
খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জনপ্রিয় খাবারের প্রতিষ্ঠান আরসালান। বুধবার সংস্থার তরফে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আরসালানের চিফ অপারেটিং অফিসার হামজা এহসান দাবি করেন, খাবারের মান নিয়ে সংস্থা সব সময়ই সচেতন। তাঁর কথায়, শুধু সাম্প্রতিক অভিযান বা তল্লাশির কারণেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, এমনটা নয়।হামজা এহসান জানান, যে কটি শাখায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান হয়েছে, সেখানে কোনও গুরুতর সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে ভবিষ্যতে খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে তার যথাযথ প্রমাণ দিতে সংস্থা নিজেদের উদ্যোগে একটি রাসায়নিক পরীক্ষাগার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে খাবারের বিভিন্ন উপকরণ পরীক্ষা করে রিপোর্ট সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে আরসালানে খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চলাকালীন আচারি কাবাবের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে যাদবপুর শাখার ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ বলেন, আচারি কাবাব সাধারণত আচার দিয়ে মাখি য়ে রাখা হয় বলেই তাতে স্বাভাবিকভাবেই টক স্বাদ ও গন্ধ থাকে। এর অর্থ এই নয় যে, মাংস বা মশলা নষ্ট ছিল।এদিকে, আরসালানের আরও একটি শাখায় অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার খবরও সামনে আসে। সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত দেখালেও পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই শাখাটি মঙ্গলবার থেকেই সংস্কারের জন্য বন্ধ রয়েছে এবং পুজোর আগেই তা ফের চালু করা হবে।পাশাপাশি সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, কোনও খাবার অবশিষ্ট থাকলে তা কর্মী বা দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে নিজেদের ভাবমূর্তি ও খাবারের মান নিয়ে আশ্বাস দিল আরসালান কর্তৃপক্ষ।
বিরিয়ানিতে ক্ষতিকারক রঙ!
পুরসভাকে পাল্টা চিঠি কর্তৃপক্ষের

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর অভিযানে এমন কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে, যা রেস্তরাঁগুলির খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নামী প্রতিষ্ঠানও এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। অভিযানে খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার থেকে শুরু করে নোংরারান্নাঘর, পচা খাদ্যসামগ্রী, খাবারে ছত্রাক এবং পোকামাকড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।সেই তালিকায় পড়েছে শহরের অতিপরিচিত নিজামস।কর্ণধার সমর নাগ বলেন,কমিশনের তরফ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।তবে কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সেখানে আমাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাতেই আমরা সাময়িক সাসপেন্সের কথা ধরে নিয়েছি।আমাদের ফুড সেফটির তরফে একটি নোটিস এসেছে সেখানে বলা হয়েছে বিরিয়ানিতে নাকি ক্ষতিকারক রং আছে।তবে এটা পড়ে হতবাক হলাম।কারণ আমরা বিরিয়ানিতে কোনও কালারই ব্যবহার করা হয়না।এটা নিজামের পুরনো ঐতিহ্য।আরও একটি অভিযোগ উঠেছে সেখানে বলা হয়েছে,মুরগিতে নাকি বেশি ফরমালিন ব্যবহার করা হয়,কিন্তু আমাদের চালু দোকান কোনও স্টক রাখি না।সমর নাগ বলেন,পুরসভাকে আমরা চিঠি দেবো।কারণ পুরসভার তরফে আমাদের যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তার কোনও ডকুমেন্ট আমাদের দেইনি।যেহেতু আমাদের বিরিয়ানিতে রং ব্যবহার করা হয়না,এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিন্ত।তাই আমরা পালটা চিঠি দিচ্ছি।মঙ্গলবার ৪০টি হোটেল,রেস্তোরাঁ এবং দোকানের ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছিল পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। বুধবার পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে আরও ১৪টি দোকানের ফুড লাইসেন্স নতুন ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আপাতত এরা কোনও খাবার বিক্রি করতে পারবে না।
গুজব ছড়ালে কড়া ব্যাবস্থা
তিনটি আউটলেটই খোলা আছে
৩৬৫ দিন। কলকাতার অতি পরিচিত শিমলা বিরিয়ানির একাধিক আউটলেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করল সংস্থা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে শিমলা বিরিয়ানি জানিয়েছে, তাদের ইএম বাইপাস, লেক টাউন এবং চিনার পার্কের আউটলেটগুলি স্বাভাবিক নিয়মে সম্পূর্ণভাবে খোলা রয়েছে এবং গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান করছে। সংস্থার দাবি, গত দু’দিন ধরে আউটলেটগুলি খোলা রয়েছে কি না, তা জানতে তাদের কাছে অসংখ্য ফোন ও বার্তা এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতেই এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে শিমলা বিরিয়ানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত আউটলেটের কাছে প্রয়োজনীয় ও বৈধ লাইসেন্স এবং অনুমতি রয়েছে। ফলে কোনও রকম বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক পরিষেবা চালু রয়েছে। সামাজিক মাধ্যম বা বিভিন্ন মাধ্যমে ফরওয়ার্ড হওয়া কোনও বার্তায় যদি ওই আউটলেটগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়ে থাকে, তবে তা সঠিক নয় বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে সংস্থা। গ্রাহকদের উদ্দেশে কর্তৃপক্ষের আবেদন, শিমলা বিরিয়ানির আউটলেট সংক্রান্ত কোনও তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সংস্থার সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সরাসরি ০৩৩-২৩৪৫-০১৮০ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। খাদ্যের মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা বরাবরই তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শহরে খাদ্য নিরাপত্তার মান আরও সুদৃঢ় করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কলকাতা পুরসভার সঙ্গে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মিষ্টি তৈরি হয়
প্রতিদিন মিষ্টির দোকান খোলা
সাম্প্রতিক কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ খুলল শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুড় চন্দ্র নন্দী। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উত্তর কলকাতার ৫৬, রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে খোলা রয়েছে এবং গ্রাহকদের পরিষেবা দিয়ে চলেছে।প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রযোজ্য সমস্ত সরকারি ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা মেনেই প্রতিদিনের মতো ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই স্পষ্টীকরণ বলে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতায় একই বা কাছাকাছি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুড় চন্দ্র নন্দীর কোনও ধরনের সম্পর্ক, যোগসূত্র বা ব্যবসায়িক সংযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ। নামের সাদৃশ্য থাকলেও গ্রাহকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কলকাতার রামদুলাল সরকার স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টির দোকান আগের মতোই চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাশে থাকার জন্য গ্রাহক, অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গুণমান, স্বাস্থ্যবিধি ও গ্রাহকের বিশ্বাস বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সবশেষে এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দোকান খোলা রয়েছে, কাউন্টার ভরা, আর গ্রাহকদের প্রিয় মিষ্টি অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য।
ফুড ভ্লগার, ইউটিউবাররা ব্যবসার
ক্ষতি করছে, আইনি ব্যবস্থা নেব
৩৬৫দিন।
কলকাতার বিভিন্ন খাদ্য বিপণি সংস্থায় প্রশাসনিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে এবার ফুড ব্লগার ও ইউটিউবারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সরব হল বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়িক সংস্থার কর্ণধাররা। বৃহস্পতিবার যাদবপুরে তাঁদের আউটলেটে এক সাংবাদিক বৈঠকে ‘ভূতের রাজা দিল বর’,’হিন্দুস্থান সুইটস’,’আপনজনের‘ মতো খাদ্য বিপণি সংস্থার কর্মকর্তারা। তাঁদের প্রস্তাব, ফুড সেফটি বিধি মেনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হয়।আগামীদিনে এই ব্যবসায়িক বিড়ম্বনা এড়াতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড সংস্থা গাইডলাইন ঠিক করে দিলে ভালো হয়। যেসব অসাধু সংস্থা নিয়ম না মেনে ব্যবসা করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু ব্যবসার বৃহত্তর স্বার্থে ও কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার বন্ধ করা জরুরি। এবিষয়ে ভূতের রাজা দিল বর প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাজীব পাল জানান,’ আমাদের সমস্ত আউটলেটে গুণগত মান বজায় রেখে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হয়।এর মধ্যে বোলপুরের একটি আউটলেটে ফ্যাসাইয়ের প্রতিনিধিরা হানা দিয়েছিল।
তাঁরা ইলিশ মাছ আরও ফ্রেশ ব্যবহার করার জন্য বলে।ইলিশ বড় একটা ফ্রেশ পাওয়া যায় না, সাধারণত কোলস্টোরেজে বেশিরভাগ সময় ইলিশ সংরক্ষিত রাখা হয়। আমরা বাজার থেকে টাটকা মাছ কেনার চেষ্টা করবো। বোলপুরের ঘটনা নিয়ে ফ্যাসাই কোনও নোটিশ দেয়নি।এই ঘটনাকে সামনে রেখে এক শ্রেণির ফুড ব্লগার ও ইউটিউবার সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা তথ্য’ পরিবেশন করছে। আমাদের কোনও রকম নোটিশ করা হয়নি। ফুড সেফটি বিধি মেনে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভূতের রাজা দিল বর ‘খাবার তৈরি করে। স্বাস্থ্যই সম্পদ, স্বাস্থ্যের মতো বিষয়ে কোনও সমঝোতা করা যাবে না।এই ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি করতে অন্ততঃ ৩ টি প্রজন্ম লেগেছে। দীর্ঘদিনের বাঙালি উদ্যোগের কথা মাথায় রেখে কিছু অপপ্রচারের আগে ভেবে করবেন,ব্যবসার ক্ষতি করবেন না।
ফুড ব্লগার ও ইউটিউবারদের আবেদন করার পাশাপাশি ব্রান্ড ইমেজের ক্ষতি করার জন্য বোলপুরের ব্লগারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ‘ভূতের রাজা দিল বর’,খাদ্য বিপণি সংস্থার কর্ণধার রাজীব পাল। হিন্দুস্থান সুইটস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাজদীপ পাল উল্লেখ করেন ,’১৯৪৯ সাল থেকে হিন্দুস্থান সুইটস মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে মিষ্টি তৈরি করে চলছে।২০০৩ সালে আমরা আইএসও থেকে সার্টিফিকেট পাই। এখনও অবধি কোনও মিষ্টি নিয়ে কমপ্লেন নেই,কোন ও নোটিশ পাঠায়নি ফ্যাসাই, ক্লিনচিট দিয়েছে ।’

Scroll to Top