এবার নতুন কৌশলে কেবল বাম ঝুলিতে ভোট টানার অপারেশন সিপিআইএমের

৩৬৫ দিন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০০ দিন কাটতে না কাটতেই বাংলায় ফের বদলে যেতে চলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিগত প্রায় তিন দশকের অবস্থান বদল করে সিপিএম প্রধান শত্রু হিসেবে এতদিন যেভাবে এক বন্ধনীতে তৃণমূল ও বিজেপিকে রেখে এসেছিল, বদলে যাচ্ছে সেই সমীকরণ। কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল এবং সিপিএম সহ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির। সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত রাজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কল্যাণীতে দাঁড়িয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম যারা আভাস দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে বলে, সম্প্রতি সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কার্যত তা আরো স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে প্রথম নির্বাচন হতে চলেছে পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভায় উপনির্বাচনে এবং তার ঠিক অব্যবহিত পরেই রয়েছে কলকাতা এবং হাওড়ার দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুর ভোট। এই দুই উপনির্বাচনে রাতারাতি সিপিএম এবং তৃণমূল জোট বেঁধে লড়াই করবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে উভয়ের শত্রুতার প্রায়োরিটি এক নম্বরে থাকায় নৈতিকভাবে কাছাকাছি আসতে চলেছে সিপিএম ও তৃণমূল। সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পশ্চিমবঙ্গ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের মুখে তাই সম্প্রতি বর্ধিত রাজ্য সম্মেলনের প্রেস কনফারেন্সের বা প্রকাশ্য জনসভার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কার্যত সেইরকম কোন আক্রমণ না শোনা যদি প্রথম ধাপ হয়, দ্বিতীয় ধাপ অবশ্যই কুনাল ঘোষের মাধ্যমে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বোসের কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলে বেড়নের কয়েকদিনের মধ্যেই এ বছরের রবীন্দ্রজয়ন্তীর তিনি নিজের কালিঘাটের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, সিপিএম এবং বামপন্থীদের নিয়ে তার কোন ইগো বা শত্রুতার মনোভাব নেই। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে রাজি তিনি। এই একই বক্তব্য তিনি আরও একবার রাখেন একুশে জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে।
মমতার বক্তব্যে সাড়া বেবি ও সেলিমের
গত ২৯ ও ৩০ আগস্ট নদীয়ার কল্যাণীতে সিপিএমের বর্ধিত রাজ্য সম্মেলনের পরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম জানান, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবারে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। উগ্র ডানপন্থী বিজেপি এবং আরএসএস সহ ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করবে সিপিএম এবং তার সহযোগী সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিগত অন্তত ১০ বছরের মধ্যে সিপিএমের লড়াইয়ের রূপরেখা বেঁধে দিতে গিয়ে মোঃ সেলিমের মুখে এই প্রথমবার শোনা গেল না তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা। অন্যদিকে পিপলস ডেমোক্রেসির সাম্প্রতিকতম সংস্করণে সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আগামী দিনে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একজোট হতে হবে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল গুলিকে। কার সিপিএমের প্রধান শত্রু বিজেপি। আর সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যে স্পষ্ট একদিকে যেমন তিনি প্রধান শত্রু হিসেবে এতদিনকার দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল ও বিজেপির নাম যৌথভাবে না নিয়ে শুধুমাত্র বিজেপি ও আরএসএস এর নাম নিয়েছেন পাশাপাশি রয়েছে গোটা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ইন্ডিয়া জোটের সঠিক দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াইয়ের বার্তা। যেখানে পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল হিসেবে রয়েছে
কংগ্রেস ও তৃণমূল।

Scroll to Top