উফ কি গরম!
part 207

HOT GIRL

৩৬৫ দিন। ওড়িশার কন্ধমাল জেলার পাহাড়ি জনপদ দারিংবাড়ি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়,এখানকার আদিবাসী সমাজের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পও সমান অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে অনেক তরুণ-তরুণী আজ নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম কন্ধ সম্প্রদায়ের তরুণী রঞ্জিতা দিগাল।
একসময় পাহাড়ি গ্রামের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন রঞ্জিতা। পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস ছিল চাষাবাদ। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলে পৌঁছাতে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হতো। তবুও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি তিনি।উচ্চশিক্ষা শেষ করে রঞ্জিতা নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। চাকরির জন্য বড় শহরে না গিয়ে তিনি স্থানীয় নারীদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। দারিংবাড়ির কফি, হলুদ, গোলমরিচ ও বনজ পণ্যের মূল্য সংযোজন করে বাজারজাত করার উদ্যোগ নেন। তাঁর নেতৃত্বে গ্রামের বহু নারী নিয়মিত আয়ের সুযোগ পান।শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, শিক্ষার প্রসারেও কাজ করছেন রঞ্জিতা। স্কুলছুট কিশোরীদের আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালান। পাশাপাশি অল্প বয়সে বিয়ে রোধ এবং নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়েও কাজ করছেন তিনি।রঞ্জিতার এই উদ্যোগের ফলে দারিংবাড়ির বেশ কয়েকটি গ্রামে নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর সাফল্যের গল্প আজ অনেক কিশোরীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।স্থানীয়দের মতে, একসময় যে মেয়েরা শুধু সংসারের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, এখন তাঁদের অনেকেই নিজস্ব আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। এর পেছনে রঞ্জিতার মতো তরুণীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দারিংবাড়ির পাহাড়, কুয়াশা আর পাইন বনের সৌন্দর্যের আড়ালে এমন অসংখ্য সংগ্রামের গল্প লুকিয়ে আছে। সেই গল্পই মনে করিয়ে দেয়, সুযোগ সীমিত হলেও ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে সাফল্যের পথ তৈরি করা সম্ভব। রঞ্জিতা দিগালের পথচলা তাই শুধু একজন আদিবাসী তরুণীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি সমাজের বদলে যাওয়ার গল্পও।

HOT SPOT


ওড়িশার ‘মিনি কাশ্মীর দারিংবাড়ি
পাইন বন, কুয়াশা আর পাহাড়ের মায়ায় অন্যরকম এক পর্যটন গন্তব্য
৩৬৫ দিন। ওড়িশার নাম শুনলেই সাধারণত পুরী, কোনার্কের সূর্য মন্দির কিংবা চিলিকা হ্রদের কথা মনে পড়ে। তবে এই রাজ্যের কন্ধমাল জেলার পাহাড়ি জনপদ দারিংবাড়ি অনেকের কাছেই এখনও অজানা। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শীতল আবহাওয়া, পাইন বন আর কুয়াশায় মোড়া পাহাড়ের জন্যই এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘ওড়িশার মিনি কাশ্মীর’ নামে।
সমুদ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত দারিংবাড়ি রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় হিল স্টেশন। বছরের বেশির ভাগ সময়ই এখানকার আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল। শীতকালে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ভোরবেলায় ঘাসের ওপর হিমকণার আস্তরণও দেখা যায়। এ কারণেই বহু বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এই পাহাড়ি জনপদ ‘মিনি কাশ্মীর’ নামে পরিচিত।দারিংবাড়ির প্রধান আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ পাইন বন। ওড়িশার অন্য কোথাও এত বড় পরিসরে পাইনগাছের দেখা মেলে না। কুয়াশা ঢাকা সকালে পাইন বনের সরু পথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ। পাশাপাশি রয়েছে সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ি ঝরনা, কফি ও গোলমরিচের বাগান এবং নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ।
প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দারিংবাড়ির আরও একটি আকর্ষণ হলো এখানকার জলপ্রপাত ও ভিউ পয়েন্ট। ডোলুরি জলপ্রপাত, হিল ভিউ পয়েন্ট এবং সূর্যাস্ত দেখার স্থানগুলোতে প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় পাহাড়ের বুক জুড়ে সবুজের বিস্তার আর দূরের নীলাভ দিগন্ত এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে।এলাকার আশপাশে বসবাসকারী কন্ধ আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। স্থানীয় বাজারে কফি, হলুদ, গোলমরিচ, মধু ও বিভিন্ন বনজ পণ্য পাওয়া যায়, যা ভ্রমণকারীরা স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করে নিয়ে যান।দারিংবাড়ি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। শীতকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। ভুবনেশ্বর বা ব্রহ্মপুর থেকে সড়কপথে সহজেই পৌঁছানো যায় এই পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে।ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূরে রেখে কয়েক দিনের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে দারিংবাড়ি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। পাইন বনের নীরবতা, কুয়াশায় ঢাকা সকাল আর পাহাড়ি বাতাসের মুগ্ধতা একবার উপভোগ করলে, ওড়িশার এই ‘মিনি কাশ্মীর’-এর স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থেকে যাবে।

 

 HOT FOOD  (ডালমা)

ডাল: ১ কাপ (অরহর ডাল বা মুগ ডাল)
সবজি: টুকরো করা আলু, কুমড়ো, কাঁচকলা, পেঁপে এবং বেগুন (মোট ২-৩ কাপ)
ফোড়ন: ১ চা চামচ পাঁচফোড়ন, ১টি শুকনো লঙ্কা, ১ চিমটি হিং এবং ১ চামচ ঘি বা সর্ষের
তেলমশলা: ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন এবং ১ চা চামচ ভাজা জিরে ও শুকনো লঙ্কার গুঁড়োজল: ৪ কাপ
ডাল ও সবজি সেদ্ধ: কুকার বা পাত্রে ডাল, কেটে রাখা সবজি (বেগুন বাদে), হলুদ গুঁড়ো, নুন ও জল একসঙ্গে মিশিয়ে সেদ্ধ করে নিন।বেগুন মেশানো: সবজি আধা-সেদ্ধ হলে তার মধ্যে বেগুন দিয়ে দিন, যাতে বেগুন বেশি গলে না যায়।ফোড়ন দেওয়া: কড়াইতে ঘি বা তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।মশলা মেশানো: সেদ্ধ করা ডাল ও সবজির মিশ্রণটি ফোড়নের মধ্যে ঢেলে দিন। ভালো করে ফুটিয়ে নামানোর আগে ভাজা জিরে ও শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

Scroll to Top