কাকিমা, চিনতে পারলে না!
কাছে আসতেই গলার হার ছিনিয়ে পগাড়পার, বালিতে অভিনব ছিনতাই

৩৬৫ দিন। কাকিমা, চিনতে পারলে না! বাইক আরোহী দুই যুবকের স্ফীত হাস্য মুখে আন্তরিক সম্বোধন শুনে পুজোর ডালি হাতে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন সত্তোরোর্ধ মীরা ভুমিকা। হেলমেট ঢাকা মুখ ভালো করে চেনা যাচ্ছিল না তবু চেনার চেষ্টা করছিলেন এরা কোন আত্মীয়, মীরা যখন স্মৃতি হাতরাচ্ছেন ঠিক সেই সময় আচমকা বাইকে বসা একজন তির বেগে হাত চালিয়ে মীরার গলার সোনার হার ছোঁ মেরে তুলে নিল। এরপর আর একটাই কথা, ‘আসি’! তারপর নিমেষে মিলেয়ে গেল বাইক এবং দুই আগন্তুক। আচমকা এই ঘটনায় কার্যত হতবাক মীরা সামান্য চিৎকার টুকুও করে উঠতে পারেননি। বালি থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঠিক কি ঘটনা ঘটেছিল? কয়েক ঘন্টা পরেও যেন হতভম্ব ভাবটা কাটছে না মীরার। তিনি বলেন, রোজের মত মঙ্গলবার সকালে পুজোর ডালা নিয়ে মন্দির যাচ্ছিলাম। তর্ক সিদ্ধান্ত লেনে পৌঁছতেই উল্টোদিক থেকে মনে হল একটা বাইক আসছে। ভালো খেয়াল করিনি। হঠাৎ কে যেন ‘কাকিমা’ বলে ডাকল। দাঁড়িয়ে যাই। গলা পরিচিত ছিল না। তবু কাকিমা বলে ডাকাতে দাঁড়ায়। দেখি বাইকে দুটো ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমাকে বলে ও কাকিমা আমাদের চিনতে পারছো না! আমি মুখ গুলো ভালো করে দেখার জন্য ওদের কাছে যেতেই একজন আচমকা গলার হারটা ছিনিয়ে নিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসি বলে পালালো। এতদিন এখানে আছি এমন ঘটনা কোনো দিন ঘটেনি খুব আতঙ্কে আছি। তার দাবী, পুলিশ দ্রুত দুষ্কৃতীদের ধরে জেলে ঢোকাক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান স্থানীয় দুষ্কৃতীরাই এই ছিনতাইয়ের পিছনে রয়েছে। দ্রুত তাদের ধরা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।  মীরা দেবীর ছেলে সন্দীপ ভূতিকা বলেন, ‘সকালে মা বটগাছতলায় পুজো করতে গিয়েছিল। পুজো করে ঘরে আসার সময় একটা লোক মাকে ফলো করে এসে একটু দাঁড়াতে বলে। মা যেই দাঁড়িয়েছে অমনি নিমিষের মধ্যে মায়ের গলা থেকে সোনার চেন টেনে ছিঁড়ে ওখান থেকে বাইকে উঠে বাদামতলার দিকে পালিয়ে যায়। ওরা চেনা পরিচিত কেউ ছিলনা। মুখ খুব ভালো দেখা যায়নি। পিছনেই পাড়ার মদনদা দাঁড়িয়েছিল। মদনদা ঘটনা দেখে খুব জোরে ছিনতাইকারীর পিছনে দৌড়ে গিয়েও ওদের ধরতে পারেনি।’

Scroll to Top