বাংলার সরকার বাংলাদেশি রোহিঙ্গা
৩৬৫ দিন। বিহারে জিতব বলেছিলাম, জিতে দেখিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় জনতা পার্টির পরের টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে এখন তো ক্ষমতায় রয়েছে রোহিঙ্গাদের সরকার। বাংলার ক্ষমতায় বসে থাকার রোহিঙ্গা বাংলাদেশীদের তাড়াবো এবারে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের গণনা শুরু হতে ভাজপার জয়ের ট্রেন্ড সামনে আসতেই এভাবে বাংলা তথা বাঙালির বিরুদ্ধে তীব্র অপমানজনক মন্তব্য করলেন মোদি মন্ত্রিসভার অন্যতম ক্যাবিনেট মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। আর বাংলা ও বাঙালিকে এভাবে অপমান করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ভাষা শুধু রাজ্য সরকারকে নয়, বাংলার প্রতিটি নাগরিককে বিদেশি তকমা দেওয়ার শামিল। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলার মানুষ ও রাজ্যের নির্বাচিত সরকারের প্রতি সরাসরি অপমান। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার ভূমিকা অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে ভাজপা। বিপ্লবীদের আত্মবলিদানের ইতিহাসের সঙ্গে এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে তারা। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে, যে বাংলা দেশকে সংবিধান প্রণেতা, কবি, বিপ্লবী, নোবেলজয়ী, বিজ্ঞানী এবং সমাজসংস্কারক উপহার দিয়েছে, সেই বাংলাকেই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের রাজ্য বলে অপমান করেছেন গিরিরাজ সিং। তৃণমূলের অভিযোগ, এটা বাংলার পরিচয়, সম্মান এবং সাংস্কৃতিক গর্বের ওপর সরাসরি আঘাত। বিজেপি বাংলায় জিততে পারে না বলেই রাজ্যের ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে না পেরে বাংলার মানুষকেই নিশানা করা হচ্ছে। বিজেপির এই আচরণ তাদের গভীর নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ।
কি বলেছেন গিরিরাজ সিং
বিহার বিধানসভার নির্বাচনের গণনা শুরু হওয়ার পরেই এনডিএ-র জয়ের প্রবণতা দেখে বাংলা তথা বাঙালির পাশাপাশি মমতাকেও তীব্র অপমানজনক আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। গিরিরাজের হুঙ্কার, আগামী বছর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলার ক্ষমতায় বসার পরে বাংলা থেকে অবৈধ বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। আমাদের পরের লক্ষ্য বাংলা। সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে গিরিরাজ বলেন, বিহার কি জিত হামারি হ্যায়, বেঙ্গল ওয়ালি দিদি আগলি বারি বেঙ্গল কি হ্যায়। তবে এবারেই প্রথম নয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এর স্লোগান তুলেছিলেন আব কি বার ২০০ পার! যদিও তার অর্ধেক তো দূরের কথা ৭৭-এ থেমে যেতে হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টিকে।
গিরিরাজ সিংয়ের অপমানজনক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি অনবরত বাংলাকে এবং বাংলার মানুষকে অপমান করছে। আমরা দেখেছি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে, আমরা দেখেছি বাংলার আইকনদের অনবরত অপমান করা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন যে, বাংলা হল রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিদের বাসস্থান। এটা বাংলা এবং বাংলার বাংলাভাষী মানুষকে অপমান।
তবে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের কোন প্রভাব আগামী বছর বাংলার নির্বাচনে পড়বে না বলে দাবি করে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের উচ্ছ্বাসে গা না ভাসানোর পরামর্শ দিয়ে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ওটা বিহারের সমীকরণ। বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। বাংলায় প্রভাব পড়বে না। বাংলায় উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। 250+ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী। বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে, শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা। বিহারসহ বহু রাজ্য তাঁর উন্নয়নের মডেল ফলোও করছেন। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করেন এবং করবেন। তৃণমূলের দলীয় মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, বিহারে ছিলেন, বিহারে জিতেছেন। বাংলাতে আগেও ছিলেন না, ভবিষ্যতেও থাকবেন না। এটা বিজেপি বুঝে নিক।
