৩৬৫দিন। কলকাতা ও শিলিগুড়ি। উত্তরবঙ্গের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার লক্ষ্মী পুজোর দিনই কলকাতা থেকে বিমানে সরাসরি হাসিমারা এয়ার বেসে নেমে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পরিদর্শন করলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা বিমান বন্দর থেকেই স্বজন হারা পরিবারগুলির জন্য ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাকৃতিক দূর্যোগে মৃতদের পরিবারের একজন করে সদস্যকে দেওয়া হবে হোমগার্ডের চাকরি। সোমবার কলতার থেকে হাসিমারা এয়ার বেসে নেমে সরাসরি সড়কপথে নাগড়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে নাগড়া কাটার বামনডাঙ্গা বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার বিমানবন্দর থেকে বলেন, যদিও মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না , তবুও আমরা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেব এবং বিশেষ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারে একজন সদস্যকে একটি বিশেষ হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আজ আমরা উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। সেখানে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ দেখতে আমি দু’দিন থাকব। আমার মুখ্য সচিব আমার সঙ্গে যাচ্ছেন, পুলিশের ডিজি ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের এডিজি উত্তরবঙ্গের আইসিটির সঙ্গে নিয়ে সোমবার সকালেই হাই পাওয়ার বৈঠক করেন এবং ভেঙে পড়া দুধিয়া সেতু, মিরিকের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা দার্জিলিং, কার্শিয়াংয়ের এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। এরপরই বন্যা কবলিত জলপাইগুড়ি জেলা, আলিপুরদুয়ার জেলার অংশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মুখ্যমন্ত্রী রিপোর্ট পেশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর জানান, পুলিশ ও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। বহু এলাকায় আমরা কমিউনিটি কিচেন খুলেছি, দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হচ্ছে এবং যেখানে হোটেলের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হবে, তা আমাদের খরচে করা হবে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা এবং আমাদের অন্যান্য পরিবহণ সংস্থাগুলি আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে আনার জন্য বিশেষ ভলভো এবং দূরপাল্লার বাসের ব্যবস্থা করেছে।আমি আজ ও আগামীকাল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব, এবং আমাদের প্রশাসন এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের কাছে সমস্ত মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেবে।
কেন্দ্রের টাকা জনকল্যাণ কাজে লাগছে না
কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা-হুগলি নদীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রেজিংয়ের কাজ করত, এবং যদি ডিভিসি তাদের পলি তোলার কাজ করত (যা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করছে না), যদি তাদের বাঁধ ও ব্যারেজগুলি আমাদের বিরুদ্ধে এইভাবে ব্যবহৃত না হত, এবং যদি কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক এবং জনবিরোধী কাজে নষ্ট না করে বাংলায় প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করা হত, তবে আমাদের মানুষ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে এই ম্যান-মেড বন্যার অনেক দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতেন।আমাদের নিজেদের সেচবিভাগের অনেক কাজ এবং বিশেষত চেক ড্যামগুলি অনেক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হয়েছে।আমরা আছি, সর্বদা, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা কীভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন, সেইসবের কিছু ছবি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম তাও জানান সামাজিক মাধ্যমে তিনি। আজ বিকেলে শিলিগুড়ি উত্তরকন্যায় ফিরে মঙ্গলবারই প্রাকৃতিক রোষানলে বিধ্বস্ত মিরিকে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।একই সঙ্গে মমতা বলেন, ‘আমার আন্তরিক আবেদন, এই দুর্যোগে বহু মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমরা।গভীরভাবে অনুভব করছি। তবুও, এই কঠিন সময়েও আমাদের মনে রাখতে হবে , একতা ও ধৈর্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সবার কাছে অনুরোধ, সাহস হারাবেন না, সংযম ও সতর্কতা বজায় রাখুন। সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে আছে, এবং আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব। দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না, এবং চারপাশের মানুষকে সহযোগিতা করুন। এই সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় , আমরা একে অপরের পাশে থেকে, একসাথে এই সংকটের মোকাবিলা করব।’
রাজনীতি পরে করুন মানুষের প্রাণ বাঁচান।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির কথা এখন নয়, পরে বলব। আগে দুর্যোগ কাটুক। মানুষ বাঁচুক। বন্যপ্রাণ বাঁচুক। আতঙ্কের মেঘ সরে গিয়ে আশ্বাসের সূর্য উঠুক।