প্রয়াত বলিউডের সর্বকালের সেরা ডানপিটে হিম্যান ধর্মেন্দ্র
তপন বকসি। মুম্বই
৩৬৫ দিন। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হসপিটাল থেকে ছাড়া পাওয়ার ১২ দিনের মাথায় মুম্বাই উত্তর-পশ্চিম শহরতলির জুহু ভিলে পারলেতে নিজের বাংলোতেই ২৪ নভেম্বর শেষ ত্যাগ করলেন ভারতের হিন্দি সিনেমার প্রবাদ প্রতিম অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের খবর পেয়ে বলিউডের প্রযোজক পরিচালক করন জোহর তার সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন… “আভি না যাও ছোড়কে…।”
হিন্দি সিনেমার হি-ম্যান হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র তার দীর্ঘ এবং বিস্তৃত ছয় দশকের অভিনয়ে জীবনে তিনশটিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২৪ নভেম্বর দুপুর বেলায় ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের নির্দিষ্ট কারণ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। অসুস্থ হয়ে ধর্মেন্দ্র নভেম্বর মাসের ১ তারিখ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। দিন পাঁচেক পর যখন তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছয়, সেই সময় হিন্দি সিনেমার তাবড় সেলিব্রেটিরা ব্রিচ ক্যানডি হসপিটালে সংকটজনক ধর্মেন্দ্রকে দেখতে ছুটে এসেছিলেন। তারপরও আরো পাঁচ ছদিন হসপিটালে কাটিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। এরপর ১২ নভেম্বর সকাল বেলায় রবীন্দ্র পরিবারের সদস্যরা তাকে তার জুহুর বাংলোতে ফেরত নিয়ে আসেন।
জুগনু থেকে চুপকে চুপকে প্রমাণ করল জাত অভিনেতা, শুধু হিম্যান নন
হিন্দি সিনেমার হি-ম্যান নেই।১৯৬০ থেকে ২০২৩।৬০ বছরের দীর্ঘ রূপোলি জগতের কেরিয়ারে তাঁর ফিল্মগ্রাফি যা আজও বলিউড ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়।১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’-এর মাধ্যমে পর্দায় আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে রোম্যান্স,অ্যাকশন ও কমেডি—সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি।ধর্মেন্দ্রর কেরিয়ারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় ১৯৬০–৭০-এর দশক।এই সময়ে ‘ফুল অউর পাথর’ (১৯৬৬), ‘অঙ্কহি’ (১৯৭৪) এবং ‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫) তাঁকে বহুমুখী তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছে দেয় ১৯৭৫ সালের আইকনিক ছবি ‘শোলে’-তে ‘বীরু’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে, যা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রে কালজয়ী ক্লাসিক।এরপর অ্যাকশন ছবিগুলির মধ্যে ‘ধর্মা’, ‘লোহা’, ‘রাজা জাট’, ‘চারণদাস’, ‘কাতিলো কা কাতিল’—প্রতিটি ছবিতেই দেখা গেছে তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি।সমান্তরালভাবে ‘সত্যকাম’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘কুদরত’ প্রভৃতি ছবিতে সংবেদনশীল অভিনয় তাঁকে সমালোচকদেরও প্রশংসা এনে দেয়।
১৯৯০-এর পর ধীরে ধীরে চরিত্রাভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন ধর্মেন্দ্র।২০০৭ সালে নিজের দুই পুত্র সানি ও ববি দেওলকে সঙ্গে নিয়ে অভিনীত ‘আপ্নে’ নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাঁকে করে তোলে সমান জনপ্রিয়।পরবর্তী সময়ে ‘জনতা গ্যারেজ’, ‘ইয়মলা পাগলা দিওয়ানা’ সিরিজ এবং সাম্প্রতিক ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’-তে তাঁর উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে যে বয়স শুধু সংখ্যা—তারকা ধর্মেন্দ্র আজও সমান উজ্জ্বল।ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান অমূল্য বলে মানেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।৩৫০র বেশি ছবিতে অভিনয় করা এই কিংবদন্তি অভিনেতা এখনও শিল্পীজীবন ও পর্দার প্রতি নিজের ভালোবাসাকে ধরে রেখেছেন অবিচলভাবে।২০০০ সালে এর এসেও চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন ধর্মেন্দ্র।লাইফ ইন আ মেট্রো,আপনে,ইয়ামলা পাগলা দিবানা সিরিজে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বয়স যতই হোক, অভিনয়ে তিনি অটুট।এছাড়াও ২০২৩ সালে তিনি রকি ওর রানি কি প্রেম কাহানি ছবিতে বিশেষ ভূমিকায় নজর কাড়েন।
