ফের জলযন্ত্রণার করুণ ছবি ঘাটালে, ডিঙি নৌকায় মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানের পথে পরিজনেরা

৩৬৫ দিন।মেদিনীপুর।অশোক কুমার মণ্ডল।প্রতিবছর বন্যায় ভাসে ঘাটাল। আর এই জলযন্ত্রণার করুণ ছবিই ফের সামনে এল। মৃতদেহ দাহ করতে বেগ পেতে হয় ঘাটালবাসীকে। এবারের ছবিতেও দেখা গেল, মৃতদেহকে ডিঙি নৌকায় চাপিয়ে উঁচু স্থানে থাকা শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তৃণমূল জমানা থেকেই ইলেকট্রিক চুল্লির কাজ শুরু হলেও আজও তা সম্পূর্ণ হয়নি। প্রশ্ন তুলছেন ঘাটালবাসী। দ্রুত ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের দাবি উঠছে। ঘাটালে অর্ধসমাপ্ত ইলেকট্রিক চুল্লি, প্রশাসনিক উদাসীনতায় বছরে বছর বন্ধ রয়েছে কাজ। সরকার পরিবর্তনে আশার আলো দেখছে ঘাটালবাসী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালে বন্যায় মৃতদেহ সৎকার করতে সমস্যায় পড়তে হয় ঘাটালবাসীকে। ২০২০ সালে রাজ্য পুরো ও নগর উন্নয়ন দপ্তর ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের  জন্য। ২০২১ সালে ঘাটালের শ্যামপুরে ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের শুরু হয়।
পরে আরও ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয় তাতেও অসম্পূর্ণ রয়ে যায় ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের কাজ। ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দপ্তর থেকে ৯০ লক্ষ টাকা এস্টিমেট করে পাঠানো হয় রাজ্য ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে ২০২৩ সালে। সেই টাকা অনুমোদন হয়ে আসিনি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর ফলে অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে চুল্লি নির্মাণের কাজ। প্রতিবছর ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে বন্যার জলে ডুবে যায় মৃতদেহ সৎকার করার শ্মশান ভুমি। বিশেষ করে ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সহ ঘাটাল পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড একমাস পর্যন্ত জল জমে থাকে। মৃতদেহ সৎকার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের। নৌকো, ডিঙি বা কলার ভেলাই চড়িয়ে মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে আসতে হয়ে উঁচু জায়গায়। চরম সমস্যায় পড়তে হয় মৃতদেহ দাহ করতে আসা মানুষকে। ২০২১ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার ঘাটালে ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের কাজ শুরু করেন কিন্তু আজও অসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে চুল্লি নির্মাণের কাজ,ঘাটাল বাসী চাইছে দ্রুত ইলেকট্রিক চুল্লির কাজ সমাপ্ত  হোক।

Scroll to Top