আক্রান্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, গাড়িতে ছোঁড়া হলো ইট পাথর ও কাদা ‘বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে’ – বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

৩৬৫ দিন। পুলিশ লক আপে  তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার পরে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে ভয়ংকর আক্রমণের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো পরিকল্পনা মাফিক বিশাল সংখ্যক দুষ্কৃতি বাহিনী ইঁট, পাথরের পাশাপাশি কাদা ও গোবর ছোঁড়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে।  মমতার সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। কল্যাণ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
আজ রবিবার দুপুরে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হালিশহরে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ভর্তি জল, নর্দমার কাদা ও জুতো ছুঁড়ে মারা হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা দ্রুত কর্ডন তৈরি করে তাঁকে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব। আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।
আক্রমণের তীব্র নিন্দা মমতার
তীব্র আক্রমণের মধ্যেও গাড়ি থেকে নেমে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারেক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে নিহত বিরজু কেওটের বাড়িতে পৌঁছান মমতা। সেখানে নিহত তৃণমূল কর্মীর দাদার সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। পুলিশ লকআপে মৃত্যুর পরেও ওরা বাড়িতে এসে ভয় দেখাচ্ছে। বাইরে থেকে লোক এনে এই ঝামেলা করা হয়েছে। অশ্রাব্য কথা, গাড়িতে বড় বড় ইট মেরেছে। গাড়িটা দেখলে বোঝা যাবে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে।  আমরা কেস করব। এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। আমাদের গাড়িতে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে। এত ইঁট মেরেছে কল্পনা করতে পারবেন না। বড় বড় পাথর ছুঁড়েছে। এক ঘণ্টা গাড়ি আটকে রেখেছিল। বিজেপির লোক জোগাড় করে এই সব করানো হয়েছে। যিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি নিজে বাইরে রয়েছেন। পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতে গেছে। আমি বেরবোই। বিজেপি ভয় পায় আমায়। এই ভাবে আমায় আটকাতে পারবে না। ওরা ভয় পাচ্ছে কারণ ওদের মুখোশ খুলে যাবে। পুলিশের সামনে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করছে লুম্পেনরা। পুলিশকে আমি দোষ দিই না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো অরাজকতা সৃষ্টি করছেন।
কি ঘটেছে
উত্তর ২৪ পরগণা কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেয়টের স্বামী বিরজু কেয়ট এর  বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে  করে পুলিশ ।পুলিশ লক আপে অসুস্থ হলে  তড়িঘড়ি তাঁকে চিকিৎসার জন্য কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিরজুর স্ত্রীর অভিযোগ, লকআপে রেখে পুলিশ অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশের বেধড়ক মারধরের চোটেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি সোচ্চার হন। যদিও পুলিশের তরফ থেকে  জানানো হয়েছে যে অসুস্থতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দায় এড়ালেন শমীক ভট্টাচার্য
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে এমন ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কোনো যোগ নেই এবং কোন বিজেপি কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন না বলে গোটা ঘটনা থেকে দায় এড়িয়ে গেলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাv

Scroll to Top