রঙিন আলোর ঝলকানিতেও অমলিন মাটির প্রদীপের কদর!

৩৬৫ দিন। রঙিন টুনি ও এলইডি লাইটের জমকালো আলোয় বাজার ছেয়ে গেলেও বাঙালির আবেগে ভাঁটা পড়েনি বিন্দুমাত্র। আধুনিক আলোর ঝলকানিকে টেক্কা দিয়ে কালীপুজোর সায়াহ্নে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ আলো। এই মাটির প্রদীপের মিটমিটে ছোট্ট শিখার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে শতাব্দীর ঐতিহ্য, আবেগ আর বাঙালির চিরচেনা ঘরোয়া টান। পুজো ঘনিয়ে আসতেই শহরের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে এখন নানা রঙের, নানা নকশার মাটির প্রদীপের রকমারি সম্ভার ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
একদিকে ঝলমলে প্লাস্টিক ও চায়নিজ রঙিন লাইটের ব্যবহার বছরের পর বছর বাড়লেও, মাটির প্রদীপের চাহিদা কমেনি বলেই স্পষ্ট জানাচ্ছেন স্থানীয় বিক্রেতারা। তবে কারিগর ও বিক্রেতাদের কথায়, এ বছর মাটি, জ্বালানি ও অন্যান্য কাঁচামালের দর এক ধাক্কায় কিছুটা বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রদীপের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও কেনাকাটায় টান পড়েনি; বিক্রেতাদের মতে, কার্তিক অমাবস্যার রাতে মায়ের পুজোয় মাটি প্রদীপের পবিত্রতা ও আলোর মাহাত্ম্যই আলাদা, আর তাই দাম একটু বেশি হলেও বাজারে ক্রেতাদের উৎসাহ ও আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। মৃৎশিল্পীদের পাড়ায় পাড়ায় এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। কারিগরদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় মাটির তাল রূপ নিচ্ছে একের পর এক শৈল্পিক প্রদীপে। দিনরাত এক করে কাজ করে চললেও তাঁদের মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। কাঁচামাল ও পরিবহণের বাড়তি খরচের সঙ্গে তুলনামূলক লাভের হিসাব মেলাতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন এই কারিগররা। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর সামান্য যে লাভটুকু থাকছে, তাতে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে উদযাপনের আনন্দের পেছনে কারিগর সমাজের আর্থিক লড়াইয়ের একটি বিষণ্ণ ছবিও উঠে আসছে বাজারের এই ব্যস্ততার অন্তরালে।
যাই হোক না কেন, উৎসবের আবহ রূপ পেতে শুরু করেছে আলোয় আলোয়। আধুনিক কৃত্রিম আলো যতই ঝলমল করুক না কেন, মাটির প্রদীপের নিজস্ব আলো, আভিজাত্য আর আবেগ আজও বাঙালি সংস্কৃতির বুকে নিজের জায়গায় সম্পূর্ণ অটুট। প্রদীপের আলোতেই ফের একবার আঁধার ঘুচে আলোর জয়গান গাইতে প্রস্তুত পুরো বাংলা।

Scroll to Top