চেন্নাই – ৫
ইস্টবেঙ্গল -৩
রোহন রায় চৌধুরী. শনিবার শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে চেন্নাইয়িন। চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে ইরফান ইয়াদওয়াডের বাড়ানো ক্রস বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ছেড়ে দেন মাদিহ তালাল। পিছন থেকে উঠে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ। মরশুমে প্রথম গোল করলেন তিনি। ১১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল চেন্নাইয়িন।লক্ষ্যভ্রষ্ট হন ইরফান। সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গলও। অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের ক্রস থেকে হেড করেছিলেন লালচুংনুঙ্গা। কিন্তু তাঁর হেড লক্ষ্যে ছিল না। উলটে ১৭ মিনিটে দুরন্ত গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাইসন। দূর থেকে তাঁর বাঁক খাওয়ানো শট পোস্টে লেগে জালে ঢুকে যায়। শুরুতেই কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। ডিফেন্সে আনোয়ার আলির অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। ২৯ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান কমায় লাল-হলুদ।
বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল দখল করেন একে লোবা। তার পরে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৫ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন চেন্নাইয়িনের তালাল। তাঁর জায়গায় নামেন লালরিয়াতপুইয়া চংথউ। এর পরেই আবার চেন্নাইয়িনের দাপট। নিজেদের বক্সে ব্রাইসনকে ফাউল করেন জিকসন সিং। পেনাল্টি দেন রেফারি। ৪১ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি রামন আন্দ্রাদে। প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় চেন্নাইয়িন।পিভি বিষ্ণু ও বিপিন সিংকে তুলে এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং রোহিত দানুকে নামান তিনি। ৪৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান দানি রামিরেজ। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করে বসেন চেন্নাইয়িনের ডিফেন্ডার মহম্মদ সাহিফ। স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ৫১ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ তৈরি করে চেন্নাইয়িন। ব্রাইসনের জোরালো শট কোনওক্রমে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গিল। তবে ৫৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পরিবর্ত হিসেবে নামা রিয়াতের শট থেকে বল পেয়ে যান ইরফান।
কাছ থেকে বলের দিক পরিবর্তন করে জালে পাঠান তিনি।লোবার পরিবর্তে ডেভিড এবং নুঙ্গার জায়গায় হার্দিক ভাটকে নামান। তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। ৬৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে রামনের মাপা পাস ধরে ইরফানের নিখুঁত ফিনিশে পঞ্চম গোল হজম ইস্টবেঙ্গলের। এর পরেও গোলের ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল চেন্নাইয়িন। ৭৩ মিনিটে গোলকিপার গিলকে একা পেয়েও বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন রামন। বাকি সময়েও একের পর এক আক্রমণে লাল-হলুদ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে চেন্নাইয়িন। গিল একাধিকবার দলকে রক্ষা না করলে ইস্টবেঙ্গলের লজ্জা আরও বাড়তে পারত। সংযুক্তি সময়ে ডেভিডে সান্ত্বনাসূচক গোলে ব্যবধান কমলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। চেন্নাইয়ের মাঠে এই পরাজয় ইস্টবেঙ্গলকে নিঃসন্দেহে ধাক্কা দেবে।





