৩৬৫ দিন। রেড কার্পেটে হেঁটে আসছে আস্ত একটা কাটা হাত, আঙুলে নেলপলিশ আংটি। খণ্ডিত অংশ থেকে ঝুলছে রক্ত মাংস। এবারের হ্যালোউইনে এভাবেই চমক দিলেন হেইডি ক্লাম। গত কয়েক বছর ধরেই হ্যালোউইন আসলেই দুনিয়ার ভক্তদের নজর থাকে এই হলিউড অভিনেত্রীর দিকে। কোনওবার জীবন্ত ভিনগ্রহী, কোনওবার অক্টোপাস, হেইডির নিখুঁত মেকআপ, পোশাক তাক লাগিয়েছে বারবার। ৫৩ বছর বয়সী জার্মান আমেরিকান সুপারমডেল জানিয়েছেন ৮ ফুট লম্বা এই হাইপার রিয়ালিস্টিক কাটা হাত বানাতে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। নিজেকে এই কাটা হাতে সাজিয়ে তুলতে ৯ ঘন্টারও বেশি মেক আপ করতে হয়েছে। পুরো সময়টায় স্ট্র দিয়ে শুধু পানীয় খেতে পেরেছেন। হেইডি জানিয়েছেন, তার এই কষ্টিউম তৈরী করেছেন হলিউডের বিখ্যাত ভিসুয়াল এফেক্ট শিল্পী মাইক মরিনো।
হ্যালোউইন ছাড়াও এর আগে মেট গালায় জীবন্ত মার্বেল মূর্তি সেজে চমক দিয়েছিলেন।
লাল কার্পেটে যখন তিনি প্রবেশ করেন, প্রথম নজরে কেউ বুঝতেই পারেনি এটা একজন মানুষ, না কি কোনো শিল্পকর্ম! মাথা থেকে পা পর্যন্ত অফ-হোয়াইট, মার্বেলের মতো টেক্সচার, ভাস্কর্যের মতো স্থির অভিব্যক্তি-সব মিলিয়ে তিনি যেন রেনেসাঁ যুগের কোনো মিউজিয়াম থেকে হেঁটে বেরিয়ে এসেছেন।লুকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর ডিটেইলিং। পোশাকের ভাঁজগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যেন সত্যিকারের পাথরের ওপর খোদাই করা। মুখের মেকআপ, চোখের গভীরতা, এমনকি ঠোঁটের সূক্ষ্ম রেখাগুলোও ছিল একেবারে ভাস্কর্যের মতো নিখুঁত। সুপারমডেল হেইডি বারবার জানিয়েছেন লাইম লাইটের আলোর নিচেই আমি থাকতে ভালোবাসি। যেভাবেই হোক না কেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যমের হেডলাইন, আমায় ছাড়া চলবে না।
হেইডির এই লাইম লাইটের ভালোবাসার জন্য বারবার বিতর্কে জড়াতেও পিছপা হননি এই সুপারমডেল। যেমন এই বছরের শুরুতেই ছুটি কাটাতে ১৬ বছরের ছোট স্বামীর সঙ্গে চলে জান ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট বার্টেসে। সেখানে তার উন্মুক্ত শরীর নিয়ে জলকেলির ছবি তুলে প্রকাশ করে দেন। মার্কিন ট্যাবলয়েড দ্য ইউএস সান-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সেন্ট বার্টসের নীল স্বচ্ছ সমুদ্রে সম্পূর্ণ টপলেস অবস্থায় সাঁতার কাটছেন হেইডি ক্লুম। তিনি পরেছিলেন শুধুমাত্র ছোট থং স্টাইলের বিকিনি বটমস, সঙ্গে লম্বা মুক্তোর হার। ছবিতে আরও দেখা যায়, টম কাওলিটজও ছিলেন সম্পূর্ণ রিল্যাক্সড মুডে খালি গায়ে, হালকা গোলাপি রঙের সুইম ট্রাঙ্কস ও ধূসর টুপি পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিচ্ছেন। সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় এবং সৈকতে হাঁটার মুহূর্তে দম্পতির প্রকাশ্য প্রেম ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।এই ছুটির সফরে হেইডির সঙ্গে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফার আন্তোয়ান ভার্গলাস। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অবকাশযাপন শুরু হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে হাজির থাকার কয়েক সপ্তাহ পর।
হেইডি ক্লুম বরাবরই নিজের শরীর নিয়ে প্রকাশ্যে খোলামেলা থাকেন। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি ইনস্টাগ্রামে সুইমিং পুলের ধারে টপলেস অবস্থায় রোদ পোহানোর ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেটের ওপর শুয়ে তিনি বুক ঢেকেছিলেন তোয়ালে দিয়ে। সেই ভিডিওতেও ভক্তরা তাঁর তারুণ্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন কমেন্ট বিভাগ। সম্প্রতি আরও একাধিক পোস্ট নিয়ে আলোচনায় এসেছেন হেইডি। কখনও অদ্ভুতভাবে শুধু পায়ের ভিডিও পোস্ট করে ভক্তদের বিভ্রান্ত করেছেন, আবার কখনও মিউনিখে ২০২৫ বাম্বি অ্যাওয়ার্ডসের আগে আকাশছোঁয়া হিল পরার মুহূর্ত শেয়ার করে চমকে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মেয়ে লেনি ক্লুমের সঙ্গে নগ্ন রঙের বডিস্যুট পরে ফটোশুট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যা অনেকের কাছে “অস্বস্তিকর” ও “অতিরিক্ত যৌনতা” বলে মনে হয়েছে। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই বিতর্ক প্রসঙ্গে হেইডি জানান, তাঁর ইউরোপীয় ঘরানায় বেড়ে ওঠার কারণেই শরীর নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি খোলামেলা। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই নিজের শরীর নিয়ে খুব খোলা মনোভাব পোষণ করেছি। আমার সন্তানরা আমাকে অন্যভাবে দেখেনি, তাই ওরাও নিজেদের শরীর নিয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ।”




